ITR-র ফাইল করছেন? এই ৬টি ভুল করলেই পকেট খালি হতে পারে! আজই হয়ে যান সতর্ক

বছরের এই সময়টিতে আয়কর রিটার্ন (ITR) ফাইল করা প্রত্যেক করদাতার কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেকেই এমন কিছু ছোটখাটো ভুল করে বসেন, যার খেসারত দিতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা বা রিফান্ড আটকে গিয়ে। আয়কর দফতরের নজর এড়াতে এবং বড় কোনো আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে আপনার রিটার্ন ফাইলের আগে এই ৬টি বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

১. সঠিক আইটিআর ফর্ম নির্বাচন: চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী বা অনাবাসী ভারতীয়—প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম রয়েছে। ভুল ফর্ম নির্বাচন করলে আপনার পুরো রিটার্নটিই বাতিল হতে পারে। তাই ফর্ম নির্বাচনের সময় সতর্ক থাকুন।

২. প্যান-আধার লিঙ্ক: বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্যান কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। এই কাজটি না করা থাকলে আপনার আইটিআর প্রসেস করা হবে না, যার ফলে পেনাল্টি পড়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

৩. সব আয়ের তথ্য গোপন না করা: সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিটের সুদ এবং শেয়ার বাজারের ডিভিডেন্ড থেকে পাওয়া সামান্য আয়ের কথা অনেকে এড়িয়ে যান। মনে রাখবেন, আপনার সমস্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য আয়কর দফতরের কাছে থাকে। তাই কোনো উপার্জনের তথ্যই গোপন করবেন না।

৪. সঠিক ট্যাক্স রেজিম বেছে নেওয়া: নতুন নাকি পুরনো—কোন ট্যাক্স রেজিম আপনার আয়ের নিরিখে সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়ী হবে, তা আগেভাগেই হিসাব করে নিন। তাড়াহুড়োয় ভুল রেজিম বেছে নিলে বড় অঙ্কের ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে।

৫. সঠিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আইএফএসসি কোড: আইটিআর ফর্মে নিজের সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি কোড দিতে ভুল করবেন না। এই তথ্য ভুল হলে আপনার প্রাপ্য ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা মাঝপথেই আটকে যাবে।

৬. ই-ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা: আইটিআর সাবমিট করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ‘ই-ভেরিফাই’ করা বাধ্যতামূলক। ই-ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না হলে আয়কর আইনের চোখে আপনার রিটার্ন জমা পড়েনি বলেই গণ্য হবে।

আপনার জন্য টিপস: রিটার্ন ফাইলের সময় সমস্ত নথিপত্র হাতে নিয়ে শান্তভাবে বসুন। কোনো বিষয়ে ধন্দ থাকলে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত ট্যাক্স কনসালট্যান্ট বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক তথ্য দিয়ে সময়মতো রিটার্ন ফাইল করাই বুদ্ধিমানের কাজ।