পরকীয়ার জেরে রক্তক্ষয়ী পরিণতি! তিন দিনে পরিবারের তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বানারহাটে চাঞ্চল্য

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহের জেরে এক মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ির বানারহাট। জেলার পশ্চিম দুরামারি অঞ্চলে মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের তালিকায় রয়েছেন গৃহবধূ চুমকি রায় (৩৬), তাঁর স্বামী বিমল রায় (৪৫) এবং বিমলের ভাই সনাতন রায়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জনমানসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় ব্যাটারি ব্যবসায়ী বিমল রায় দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্ত্রী চুমকি এবং নিজের ভাই সনাতনের মধ্যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা সন্দেহ করতেন। এই সন্দেহকে কেন্দ্র করে পরিবারে দিনের পর দিন অশান্তি লেগেই থাকত। ঘটনাটি চূড়ান্ত আকার ধারণ করে যখন চুমকিদেবী বাড়ি থেকে বের হলে বিমলবাবু তাঁর পিছু নেন। তারপরই দু’জনেই নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার কিছু সময় পর বিমলবাবু তাঁর ছেলের মোবাইল ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেখানে তিনি সরাসরি স্বীকার করেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছেন এবং নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে চলেছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর মোরাঘাট জঙ্গলের মধুবনী সেতুর কাছ থেকে চুমকির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তার পরের দিনই সেই একই জঙ্গল থেকে স্বামী বিমলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই জোড়া মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম দুরামারির রাঙাতি মহাশ্মশানের একটি গাছ থেকে বিমলের ভাই সনাতনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, দাদা এবং বৌদির মৃত্যুতে সনাতন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং সেই অবসাদ থেকেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। বানারহাট থানার পুলিশ তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাই রুজু করেছে এবং ঘটনাটির পেছনে আরও কোনো রহস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত এই অশান্তির ছায়া যে এতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা ভাবতেই পারছেন না প্রতিবেশীরা। বিমলবাবু, চুমকিদেবী এবং তাঁদের একমাত্র ছেলে বিরাজকে নিয়ে ছিল তাঁদের ছোট্ট সংসার। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রতন রায় জানিয়েছেন, বিমল এবং চুমকির দাম্পত্য কলহ নতুন কিছু নয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটাতে গ্রামে বহুবার সালিশি সভা ডাকা হয়েছে। স্থানীয় মোড়ল থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা ও অবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। সেই অবিশ্বাসই যে শেষ পর্যন্ত তিনজনের প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কল্পনা করতে পারেননি কেউই।
বর্তমানে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে বানারহাট থানার পুলিশ। দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারেরই সর্বনাশ করেনি, বরং গোটা এলাকার মানুষের মধ্যে এক গভীর আতঙ্ক এবং অস্বস্তি তৈরি করেছে।