এয়ারটেল-জিও অতীত! বিএসএনএল-এর এই অবিশ্বাস্য প্ল্যান কাঁপিয়ে দিল টেলিকম বাজার, মাত্র ১৯৯ টাকায় মিলছে যা!

বেসরকারি টেলিকম অপারেটরদের আকাশছোঁয়া পোস্টপেইড বিলের দৌরাত্ম্যে যখন নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের, ঠিক তখনই সাশ্রয়ী উপভোক্তাদের জন্য ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল (BSNL)। জিও বা এয়ারটেলের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলির পোস্টপেইড প্ল্যান যেখানে সাধারণত ৪০০ টাকা থেকে শুরু হয়, সেখানে বিএসএনএল তার গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছে অবিশ্বাস্য রকমের সস্তা একটি পোস্টপেইড মোবাইল প্ল্যান, যা প্রতিযোগী সংস্থাগুলির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ী।
বিএসএনএল-এর সবচেয়ে সাশ্রয়ী পোস্টপেইড প্ল্যানটি মাত্র ১৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এই প্ল্যানটি মূলত সেইসব গ্রাহকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে যারা সীমিত খরচে অধিক সুবিধা পেতে চান। ১৯৯ টাকার এই প্ল্যানে গ্রাহকরা পাচ্ছেন আনলিমিটেড ভয়েস কলিংয়ের সুবিধা এবং প্রতি মাসে ২৫ জিবি হাই-স্পিড ডেটা। এই প্ল্যানটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ডেটা রোলওভার’ সুবিধা, যার মাধ্যমে অব্যবহৃত ডেটা পরবর্তী মাসের জন্য জমিয়ে রাখা যায় এবং গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৭৫ জিবি পর্যন্ত ডেটা রোলওভারের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।
প্ল্যানটির বিস্তারিত সুবিধা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গ্রাহকরা ২৪x৭ আনলিমিটেড ভয়েস কলিংয়ের পাশাপাশি প্রতিদিন ১০০টি করে এসএমএস পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন যে, এই নির্দিষ্ট প্ল্যানটিতে কোনো অ্যাড-অন ফ্যামিলি কানেকশনের সুবিধা নেই। যদি ডেটা লিমিট শেষ হয়ে যায়, তবে কোম্পানি প্রতি এমবি ব্যবহারের জন্য ১ পয়সা হারে চার্জ করবে। টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান টেলিকম বাজারে ১৯৯ টাকার বিনিময়ে ২৫ জিবি ডেটা এবং এতগুলি সুবিধা দেওয়ার মতো দ্বিতীয় কোনো পোস্টপেইড প্ল্যান আর নেই।
তুলনামূলক আলোচনায় দেখা যায়, সমমূল্যের প্রিপেইড প্ল্যানগুলোর সাথেও বিএসএনএল-এর এই পোস্টপেইড প্ল্যানটি অনায়াসে পাল্লা দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, জিও-র ১৯৯ টাকার প্রিপেইড প্ল্যানটিতে সাধারণত প্রতিদিন ১.৫ জিবি ডেটা এবং মাত্র ১৮ দিনের ভ্যালিডিটি পাওয়া যায়, যেখানে মোট ডেটা মেলে ২৭ জিবি। কিন্তু বিএসএনএল-এর পোস্টপেইড প্ল্যানটি পুরো এক মাসের নিশ্চিন্ত পরিষেবা প্রদান করে। যদিও জিও-র প্রিপেইড প্ল্যানে জিও টিভি এবং ক্লাউড স্টোরেজের সুবিধা রয়েছে, তবুও ভ্যালিডিটি এবং মাসিক পোস্টপেইড অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিএসএনএল এগিয়ে থাকছে।
সরকারি টেলিকম সংস্থার এই পদক্ষেপটি মূলত তাদের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যে হারে বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিগুলি বারবার রিচার্জের দাম বাড়াচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে বিএসএনএল-এর এই ১৯৯ টাকার প্ল্যানটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। যারা অফিসের কাজ বা দৈনন্দিন প্রয়োজনে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি একটি সাশ্রয়ী এবং কার্যকর সমাধান। বিএসএনএল প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলোও বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতায় গ্রাহকদের সেরা পরিষেবা দিতে সক্ষম।