চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ আগুন! হাওড়াগামী ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে আতঙ্ক, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীদের

পূর্ব বর্ধমানের তালিত স্টেশনের অদূরে শনিবার রাতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় হাওড়াগামী ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসকে কেন্দ্র করে। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনের ঠিক পিছনের কামরার নিচ থেকে আচমকাই ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে, যা মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখায় রূপান্তরিত হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটিকে তড়িঘড়ি তালিত স্টেশনের কাছে থামিয়ে দেওয়া হয়।

খবর পাওয়া মাত্রই রেলকর্মীরা ত্বরিত গতিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে কামরা ও যান্ত্রিক দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয় এবং ট্রেনটি ফের চলার উপযোগী বলে নিশ্চিত হওয়ার পর হাওড়ার উদ্দেশে রওনা হয়।

ঘটনার নেপথ্যে যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, ট্রেনটি ধানবাদ ছাড়ার পর থেকেই কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল। দুর্গাপুর পার করে পানাগড়ের কাছাকাছি এলাকাতেও ট্রেনটিতে সমস্যা অনুভূত হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। এরপরই তালিতের কাছে পৌঁছালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং ট্রেনের নিচের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। প্রাণভয়ে বহু যাত্রী দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, ট্রেনের কামরায় ‘ব্রেক বাইন্ডিং’ জনিত সমস্যার কারণেই এই ধোঁয়া ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। কারিগরি ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত তা মেরামত করা হয়েছে। রেলের তৎপরতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টার জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে অবশেষে ট্রেনটি তার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পুনরায় যাত্রা শুরু করে। তবে যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ এই যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে কি না, তা নিয়ে রেলযাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।