গেটম্যানের গাফিলতিতেই প্রাণ গেল ৫ শিশুর? মুর্শিদাবাদে ট্রেন-ভ্যান সংঘর্ষে তীব্র উত্তেজনা

মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুরের মধ্যবর্তী রেলগেটে স্কুল ভ্যানে ট্রেনের ধাক্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচজনে। শুক্রবার সকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
কী ঘটেছিল? শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ হাওড়া-নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পর গেটম্যান লেভেল ক্রসিং খুলে দেন। অভিযোগ, গেট খোলা থাকাকালীন স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে ওই ভ্যানটি রেললাইন পার হওয়ার সময় তীব্র গতিতে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল। ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ফারহানা বেগম (৭), জেসিকা শবনম (৮) এবং সাইকেল আরোহী জামশেদ শেখের (৫০) মৃত্যু হয়েছিল।
হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু: দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত কর্ণসুবর্ণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চার পড়ুয়া ও গাড়ি চালককে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুপুর নাগাদ হাসপাতাল সূত্রে খবর আসে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইশানুর রহমান (৫) এবং তামান্না পারভিন (৭)-এর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অন্য দুই পড়ুয়া ও চালক আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বিক্ষোভ: ঘটনার পর স্থানীয়রা তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বহরমপুর থানার পুলিশ। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচিন মক্কর জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়েছে।
এদিকে, কর্তব্যে চরম গাফিলতির অভিযোগে গেটম্যানকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জন্য এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা: মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন:
পূর্ব রেল: মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে।
রাজ্য সরকার: প্রতিটি পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নির্দোষ শিশুদের এই অকাল মৃত্যুতে মুর্শিদাবাদ জুড়ে শোকের পরিবেশ। রেলের গেটম্যানের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কীভাবে কয়েকটা পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিল, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সর্বস্তরে।