“পাহাড়ে নামবে ধস, প্লাবিত হবে শহর!”-১০ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে দেশজুড়ে অ্যালার্ট

বৃষ্টির জন্য হাহাকার করা ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অবশেষে স্বস্তির খবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের সক্রিয় হতে চলেছে মৌসুমী বায়ু। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২০ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর, পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঝেঁপে বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

কী কারণে এই সক্রিয়তা? আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে দুটি শক্তিশালী ব্যবস্থা:

  • বিএসআইএসও (Boreal Summer Intraseasonal Oscillation): এটি বর্তমানে অনুকূল বা ধনাত্মক পর্যায়ে রয়েছে।

  • বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ: রসবি তরঙ্গের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে আনছে, যা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে।

কোথায় কতটা বৃষ্টির সম্ভাবনা? আগামী ১৯ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে:

  • উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ: ৩০০-৫০০ মিমি (উত্তরাখণ্ড), ২০০-৩৫০ মিমি (উত্তরপ্রদেশ)।

  • হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীর: ১৫০-৩০০ মিমি।

  • পাঞ্জাব, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা ও দিল্লি-এনসিআর: ১০০-২০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার থেকেই উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে এই বৃষ্টিপাত শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়তি সতর্কতা বৃষ্টি উত্তর ভারতের কৃষিতে স্বস্তি আনলেও পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাহাড়ে ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

দেশের আবহাওয়ায় ‘উত্তর-দক্ষিণ’ বৈপরীত্য বর্তমানে দেশের আবহাওয়ায় একটি স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে। ইসিএমডব্লিউএফ (ECMWF)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যখন উত্তর ও পূর্ব ভারতে বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়বে, তখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের গুজরাট, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে বৃষ্টির ঘাটতি বজায় থাকতে পারে। এতে ওই অঞ্চলগুলোতে খরার পরিস্থিতি আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের আশা, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ ভারত এবং পশ্চিম উপকূলেও বৃষ্টির পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

কৃষকদের জন্য পরামর্শ জুন ও জুলাইয়ের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতির কারণে খরিফ চাষে বড় ধাক্কা লেগেছিল। নতুন করে বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও, অতিবৃষ্টির কারণে জমির ফসল যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। জল নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সামনের ১০-১৫ দিনের আবহাওয়াই ঠিক করে দেবে চলতি বর্ষা মরশুমের সামগ্রিক ভাগ্য। তাই আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তা মেনে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে।