পশ্চিমবঙ্গের আরামবাগের ‘গ্রীন সিটি’ প্রকল্পকে ঘিরে চলা বহু প্রতীক্ষিত ও বিতর্কিত আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে এল বড়সড় মোড়। প্রায় ৭ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অভিযুক্ত মূল পাণ্ডা স্বপন নন্দীকে শেষ পর্যন্ত কেরালার গোপন ডেরা থেকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপন করে থাকা স্বপন নন্দীকে আরামবাগে নিয়ে আসতেই এলাকায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশি কনভয়।
সোমবার আরামবাগে স্বপন নন্দীকে নিয়ে আসার সাথে সাথেই তাকে লক্ষ্য করে চলে ‘চোর চোর’ স্লোগান। স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করে আরামবাগের সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করেছেন স্বপন নন্দী। পুলিশের গাড়িতে ওঠানোর সময় বিক্ষোভকারীদের তরফে ডিম ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সংশ্লিষ্ট এলাকা। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণে জনরোষকে নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশবাহিনীকে।
সূত্রের খবর, গ্রীন সিটি প্রকল্পের নামে বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন স্বপন। কেরালায় আশ্রয় নিলেও পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ৭ কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক দুর্নীতির নেপথ্যে কি একাই স্বপন নন্দী? নাকি এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনীতির কোনো হেভিওয়েট মুখ?
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে, আত্মসাৎ করা টাকার একটি বড় অংশ ঠিক কোথায় পাচার করা হয়েছে। একইসঙ্গে, স্বপনের জবানবন্দিতে উঠে আসতে পারে আরও বড় কোনো রাঘববোয়ালের নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের কাজ মাঝপথে আটকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। গ্রীন সিটি হওয়ার কথা থাকলেও তা কেবল নথিপত্রেই রয়ে গেছে, বাস্তবে রূপ পায়নি।
বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে স্বপন নন্দীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত অন্য সহযোগীদের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই দুর্নীতির জাল কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। স্বপন নন্দীর গ্রেফতারির পর মুখ খোলার অপেক্ষায় রয়েছেন আরামবাগের বাসিন্দারা। দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত স্বপন নন্দীর এই গ্রেফতারি কি শেষ পর্যন্ত বিচারব্যবস্থায় কোনো কঠোর শাস্তির পথ সুগম করবে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও গভীর কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত? আগামী দিনে তদন্তের গতিপ্রকৃতিই বলে দেবে সেই উত্তর।





