জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের অন্যতম জনমুখী প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে রাজ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আগামী দিনে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। বিশেষ করে রাজ্যের মুসলিম মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন—এমনই এক বিতর্কিত দাবিকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য-রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে নবান্নে একটি বিশেষ ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। ওই সংগঠনের দাবি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক। কেন এমন দাবি তোলা হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ওই সংগঠনের অভিযোগ, মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশ নাকি সরকারকে যথাযথ মান্যতা দেয় না। তাদের আরও দাবি, এই সম্প্রদায়ের মানুষজন ভারত মাতাকে ‘মা’ বলে স্বীকার করেন না। এই যুক্তিতেই তারা দাবি তুলেছে যে, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় পরিচালিত এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যেন তাদের দেওয়া না হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। ওই সংগঠনের অভিযোগের তালিকায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে এসেছে। সংগঠনের দাবি, বহুবিবাহের প্রথা মুসলিম সমাজের একাংশে প্রচলিত। অনেক ক্ষেত্রে এক একজন মুসলিম পুরুষ একাধিক বিয়ে করে থাকেন, যা কখনো কখনো সাত থেকে আটজন পর্যন্ত পৌঁছায়। তাদের প্রশ্ন, একটি পরিবারে যদি এতজন মহিলা থাকেন এবং প্রত্যেকেই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, তবে তা সাধারণ মানুষের করের টাকার অপচয়। তাই সুনির্দিষ্ট নীতি পরিবর্তন করে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হোক।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। নবান্নের তরফ থেকে অবশ্য এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সরকারি কোনো নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়নি। এটি শুধুমাত্র একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ডেপুটেশন মাত্র। তবুও এই দাবি ঘিরে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং উপভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জুলাই মাস থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের নিয়মাবলীতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, নবান্ন এই স্পর্শকাতর বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।





