সপ্তাহের প্রথম দিনেই জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বড় আপডেট। মার্কিন-ইরান শান্তিচুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও, সোমবার, ১৫ জুন ভারতের মেট্রো শহরগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনো বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। তেল সংস্থাগুলো এদিন অপরিবর্তিতই রেখেছে জ্বালানির দাম। তবে রান্নার গ্যাস থেকে সিএনজি—নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির খরচ গত কয়েকদিনে বেশ কিছুটা বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে।
তেল বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে সরকার সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিল্প, বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক উপভোক্তা এখন থেকে আর সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পারবেন না। এই ধরনের পাইকারি ক্রেতাদের জন্য সরাসরি ‘বাল্ক সেলস পয়েন্ট’ বা নিজস্ব ‘কনজিউমার পাম্প’ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য খুচরো বাজারে জ্বালানির সহজলভ্যতা বজায় রাখা।
গত ১৫ দিনে জ্বালানির মূল্যতালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল আকাশচুম্বী। যার প্রভাব পড়েছে আমাদের হেঁসেলেও। গত ৭ জুন থেকে ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের (১৪.২ কেজি) দাম সিলিন্ডার প্রতি ২৯ টাকা বেড়েছে। গত তিন মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার গ্যাসের দাম বাড়ল। এছাড়া বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে ১ জুন থেকে। মুম্বাইয়ের বাজারে সিএনজি-র দাম ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৮৬ টাকা এবং পিএনজি-র দাম ৫০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৫২ টাকা। যদিও রপ্তানি শুল্কের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে কেন্দ্র, তবে পেট্রোল, ডিজেল ও এটিএফ-এর ওপর নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হয়েছে।
বর্তমানে কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের চিত্রটা এরকম: দিল্লিতে পেট্রোল ১০২.১২ টাকা, ডিজেল ৯৫.২০ টাকা; কলকাতায় পেট্রোল ১১৩.৪৭ টাকা, ডিজেল ৯৯.৮২ টাকা; মুম্বাইয়ে পেট্রোল ১১১.১৮ টাকা, ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকা। সিএনজি-র ক্ষেত্রে হায়দরাবাদে ৯৭ টাকা, কলকাতায় ৯৩.৫০ টাকা, দিল্লিতে ৮৩.০৯ টাকা প্রতি কেজি। জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং নিত্যনতুন সরকারি নিয়মের বেড়াজালে সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তি পাবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন বিশ্ববাজারে তেলের দর এবং শান্তিচুক্তির পরবর্তী প্রভাবের ওপর।





