মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলা সাক্ষী থাকল এক অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার। স্বামী তার স্ত্রীকে গলায় লোহার শিকল দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন, এমনকী শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল-গরম লোহার রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্ত সর্দার সিং তানওয়ারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা বন্দি থাকার পর অসীম সাহসিকতায় শিকল ছিঁড়ে থানায় পৌঁছালেন নির্যাতিতা মাঙ্গিবাঈ তানওয়ার।
ঘটনার সূত্রপাত ১০ জুন। মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে মাঙ্গিবাঈয়ের ওপর চড়াও হন স্বামী। গাছ থেকে ডাল কেটে লাঠি বানিয়ে চলে নৃশংস প্রহার। পুলিশে যাওয়ার পরিকল্পনা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী তাঁকে বাড়িতেই তালাবন্দি করে রাখেন। মাঙ্গিবাঈয়ের অভিযোগ, স্বামী গ্যাস স্টোভে রড গরম করে তাঁর কোমর ও উরুতে একাধিকবার ছ্যাঁকা দেন। সাহায্যের আশায় চিৎকার করলেও গ্রাম থেকে কেউ এগিয়ে আসেনি। স্বামী চেয়েছিলেন স্ত্রী পুলিশের কাছে যাওয়ার চিন্তা ত্যাগ করুক এবং পঞ্চায়েতে মিটমাট করে নিক। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়েই মহিলা সম্মতির অভিনয় করেন।
স্বামী যখন গ্রামবাসীদের ডাকার জন্য বাড়ি থেকে বের হন, তখনই পালানোর সুযোগ হাতছাড়া করেননি মাঙ্গিবাঈ। আশেপাশে থাকা একটি ভারী পাথর দিয়ে বারবার তালার ওপর আঘাত করতে শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে ভেঙে যায় তালা। গলার শিকল নিয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে খিলচিপুর থানায় পৌঁছান তিনি। রাস্তা ছিল নির্জন, পায়ে কাঁটা ফুটে রক্ত ঝরছিল, তবুও তিনি থামেননি। পথচারীরা তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন ভাবলেও, তিনি ছিলেন লক্ষ্যে অবিচল।
রাত ১০টা নাগাদ যখন তিনি থানায় ঢোকেন, তখন গলার সেই লোহার শিকলটি তখনও ঝুলছিল। তাঁর শরীরে পোড়া ক্ষত ও মারধরের দাগ দেখে হতবাক হয়ে যান পুলিশকর্মীরা। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ শিকলটি খুলে ফেলে এবং তাঁকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠায়। রিপোর্ট আসতেই পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী সর্দার সিং তানওয়ারকে গ্রেপ্তার করে। খিলচিপুর থানার এসএইচও কমল সিং গেহলট জানিয়েছেন, মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। যে শিকলটি দিয়ে তাঁকে স্তব্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল, সেটিই এখন এই মামলায় সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই ঘটনা নারী সুরক্ষার ওপর আবারও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল।





