উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায় সাধু বাবা মিলনদাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইজরায়েলকে পুলিশের এনকাউন্টারে খতম করা হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আরও এক কঠোর নজির দেখল রাজ্য। এই সংঘর্ষে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৯ জুন। উন্নাওয়ের বাঙ্গরমউ এলাকার ঘুরে টোলায় নির্মাণাধীন এক রাম মন্দিরে দিনদুপুরে বর্বরোচিতভাবে খুন করা হয় ৬০ বছর বয়সী সাধু বাবা মিলনদাসকে। অভিযোগ, মন্দিরে লাউডস্পিকারে ভজন বাজানো নিয়ে বিবাদের জেরে ইজরায়েল ও তার সঙ্গীরা ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে সাধু মিলনদাসকে হত্যা করে। এই নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হন।
পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে ইজরায়েল, লল্লি, ইয়ামিন, শানু ও শফিকে চিহ্নিত করে। ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও, মূল অভিযুক্ত ইজরায়েল গা ঢাকা দেয়। তাকে ধরতে পুলিশের বিশেষ টিম ও এসওজি সক্রিয় হয় এবং তার মাথার দাম এক লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়।
অবশেষে রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চলা দীর্ঘ তল্লাশিতে তাজপুর আন্ডারপাসের কাছে ইজরায়েলকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। তাকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হলেও, ইজরায়েল উল্টো পুলিশের ওপর গুলি বর্ষণ করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশও গুলি চালায়, যা শেষ পর্যন্ত এনকাউন্টারে পরিণত হয়। এই গুলির লড়াইয়ে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অভিযুক্ত ইজরায়েলের।
এই এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং স্থানীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তারা সাফ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে অপরাধীদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। নিরীহ সেবককে হত্যার মতো জঘন্য ঘটনায় প্রশাসন যে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, তা রাজ্যে কঠোর আইন-শৃঙ্খলার বার্তা দিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এবং মন্দির এলাকায় পুনরায় শান্তি ফিরেছে। সাধু মিলনদাসের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের দিকে আরও একধাপ এগোলেন বলে মনে করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও জোর তল্লাশি চলছে।





