৬৫-র বৃদ্ধের কাণ্ড! বজবজের গৌরব প্রচারে হেঁটে কন্যাকুমারী, ২৪৮৫ কিমি পায়ে হেঁটে কী বার্তা দিলেন অতীন হালদার?

ঐতিহ্য ও ইতিহাসের শহর বজবজের গৌরবগাথা সর্বভারতীয় স্তরে তুলে ধরার এক অসামান্য প্রচেষ্টা। ৬৫ বছর বয়সী অতীন হালদার নামের এক বৃদ্ধ বজবজ থেকে প্রায় ২৪৮৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌঁছে গেলেন সুদূর কন্যাকুমারীতে। তাঁর এই অভিনব পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।

স্বাধীনতার ইতিহাসে বজবজের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাটিই ছিল সুভাষচন্দ্র বসুর অন্যতম রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র। এখানেই ব্রিটিশরা ‘কোমাগাতামারু’ জাহাজ থেকে নামানো একদল স্বাধীনতা সংগ্রামীকে গুলি করে হত্যা করেছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকা থেকে ফিরে প্রথম পা রেখেছিলেন এই বজবজেই। সেখানকার বাসিন্দাদের দাবি, বজবজ এক পবিত্র পুণ্যভূমি।

আর এই পবিত্র ভূমির মাহাত্ম্যই সারা দেশকে জানাতে মহালয়ার দিন বজবজ থেকে রওনা দেন অতীন হালদার। তাঁর পিঠে ছিল একটি ব্যাগ, গায়ে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা, এবং নীচে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি। যাত্রাপথে লেখা ছিল: ‘বজবজ থেকে কন্যাকুমারী রক’।

৬১ দিন ধরে টানা হেঁটে তিনি কন্যাকুমারীতে পৌঁছন। এরপর তিনি ট্রেনে করে বাড়িতে ফেরেন।

প্রতিকূলতা ও মানুষের ভালোবাসা:

নিজের এই ঐতিহাসিক যাত্রা নিয়ে অতীনবাবু জানান, পথে বহু প্রতিকূলতা এসেছে। তবে তার চেয়েও বেশি পেয়েছেন মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসা। বহু জায়গায় মানুষ তাঁকে নিজেদের বাড়িতে অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

খাবারের রুটিনও ছিল বেশ কঠিন। দিনে হয় বিস্কুট, না হলে উপবাস। রাতে সামান্য রুটি—এই খেয়েই প্রতিদিন তিনি এগিয়ে গিয়েছেন লক্ষ্যের দিকে। এই যাত্রা সফল করে তিনি বজবজে এসে পৌঁছলে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে স্টেশনে ভিড় করেন বহু মানুষ। বজবজের গৌরব প্রচারে অতীন হালদারের এই উদ্যোগ এখন গোটা এলাকার কাছেই এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty