৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের পর এবার ব্রিগেড মাতাবে ১ লক্ষ কণ্ঠে ‘হরিনাম সংকীর্তন’, জানুয়ারি মাসেই বড় ঘোষণা

রাজনৈতিক সমাবেশের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ব্রিগেড প্যারাড গ্রাউন্ড সম্প্রতি ধর্মীয় কর্মসূচির জন্য আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। মাসখানেক আগে এই ব্রিগেডেই ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নদিয়ার সভা থেকে সেই অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “গীতাপাঠের জন্য পাবলিক মিটিং করার কী আছে? ধর্ম মানে মানবতা, ধর্ম মানে শান্তি…”
ব্রিগেডে এবার লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন
তবে তৃণমূল সুপ্রিমোর এই মন্তব্যের ঠিক পরের দিন, শুক্রবার সেই ব্রিগেডেই আরও একটি বড় ধর্মীয় সমাবেশের ঘোষণা করা হলো। তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরপন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোসা পরিষদের সভাপতি নান্টু হালদার এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, জানুয়ারি মাসেই ব্রিগেডে ১ লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
নান্টু হালদার বলেন, “আমরা একটা অরাজনৈতিক কর্মসূচি করতে চাই। লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন হবে। জানুয়ারি মাসেই কোনও একটা দিন নির্ধারিত হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, এই কর্মসূচিতে কোনও রকম রাজনৈতিক ছোঁয়া থাকবে না। তিনি অভিযোগ করেন, “সবাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করছেন। কেউ গীতাপাঠের আয়োজন করছেন, কেউ কোরানা পাঠের আয়োজন করছেন। কিন্তু মতুয়ারা একেবারেই অরাজনৈতিক।”
হরিনাম শেষে ভোটার তালিকা ও সিএএ নিয়ে আর্জি
কিন্তু হঠাৎ এই আয়োজন কেন? নান্টু হালদার জানান, ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনকে মাথায় রেখেই এই হরিনাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। হরিনাম সংকীর্তন শেষে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটার তালিকায় সমস্ত মতুয়াদের নাম নিশ্চিতভাবে রাখার আর্জি জানাবেন।
পাশাপাশি, তিনি সিএএ (CAA) নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সিএএ-এর ফর্ম ফিল-আপ করেও মতুয়ারা এখনও নাগরিকত্ব পাননি। এই অনুষ্ঠানে সেই নিয়েও প্রতিবাদ জানানো হবে। মতুয়াদের এই ‘সিএএ ক্ষোভের’ জেরে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বেড়েছে গেরুয়া শিবিরে।
বিজেপি নেতা প্রিয়াংগু পাণ্ডে অবশ্য এই প্রসঙ্গে বলেন, “CAA নিয়ে ওনারা ভুল বুঝেছেন বা কেউ ভুল বুঝিয়েছেন। সব হিন্দুই নাগরিকত্ব পাবেন। আর মতুয়াদের হরিনাম সংকীর্তনের আমন্ত্রণ পেলে আমরা সবাই যাব। কিন্তু গীতাপাঠে যখন মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তিনি আসেননি।”