৫০০ বছরের ঐতিহ্য, কুলিক নদীর তীরে রায়গঞ্জের ‘বন্দর আদি করুণাময়ী কালী’, যেখানে আজও শোনা যায় মায়ের নুপুরের ধ্বনি!

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের কুলিক নদীর বন্দর ঘাটে প্রায় পাঁচ শতক ধরে প্রথা মেনে হয়ে আসছে কালী মায়ের আরাধনা। এই মন্দিরটি ‘বন্দর আদি করুণাময়ী কালীবাড়ি’ নামে পরিচিত, যার মাহাত্ম্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশেও।

বামাক্ষ্যাপার বংশধরদের পুজো

কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে পাঞ্জাব প্রদেশের এক সাধু পায়ে হেঁটে এসে কুলিক নদীর বন্দর ঘাটে পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে সিদ্ধিলাভ করেন। সেই থেকেই এখানে বেদীতে কালীর আরাধনা শুরু হয়।

এরপর দিনাজপুরের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে ওই একই স্থানে কালী মন্দিরটি নির্মাণ করেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— ২১৬ বছর আগে তারাপীঠের মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধর জানকিনাথ চট্টোপাধ্যায় বারাণসী থেকে কষ্টিপাথরের কালী মূর্তি এনে পঞ্চমুন্ডির আসনে স্থাপন করেন। সেই থেকেই বামাক্ষ্যাপার বংশধররাই বংশানুক্রমে এই মন্দিরে দক্ষিণাকালীর পুজো করে আসছেন।

বামাক্ষ্যাপার বংশধরের স্ত্রী রিয়া চটোপাধ্যায় জানান, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর কিছুদিন পুজো স্থগিত ছিল, তবে পাড়ার লোকজনদের উদ্যোগে তা আবার শুরু হয়।

পুজোর বিশেষ রীতিনীতি

এই মন্দিরের পুজোয় একাধিক প্রাচীন রীতিনীতি এখনও মেনে চলা হয়:

শিয়াল ডাকলে পুজো শুরু: শিয়াল ডাকলে তবেই পুজো শুরু হয়। কুলিক নদীতে এক ডুব দিয়ে কলসির জল তোলা হয়।

মাছ বলি ও ভোগ: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাকে আজও পুজোতে প্রথা মেনে শোল এবং বোয়াল, দুইরকম মাছ ভোগ দেওয়া হয়। মাছ ভোগের পাশাপাশি তন্ত্রমতে পূজিতা এই দেবীর কাছে ছাগ বলিরও প্রচলন রয়েছে।

নুপুরের ধ্বনি: স্থানীয়দের মুখে কথিত আছে যে, এই মন্দিরে কালীপুজোর রাতে আজও মায়ের পায়ের নূপুরের ধ্বনি শোনা যায়।

ভক্তের সমাগম

জাগ্রতা এই দেবীর মাহাত্ম্যের কারণে দীপান্বিতা কালীপুজোর রাতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। ভক্তদের প্রনামী আর দান দিয়েই হয় এই কালীপুজো। স্থানীয়দের দাবি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, এমনকি পাশের দেশ বাংলাদেশ থেকেও এই পুজোতে ভক্তদের সমাগম হয়ে থাকে।