২৪ ঘণ্টা পার, তবুও পলাতক ‘শিখা ইন’ হোটেলের মালিক! সিট গঠন ও কড়া রিপোর্ট তলব মুখ্যমন্ত্রীর

মির্জা গালিব স্ট্রিটের বহুল আলোচিত এবং অভিশপ্ত ‘শিখা ইন’ (Shikha Inn) হোটেলে ঘটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত অধরা ওই হোটেলের মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র। গত ২৪ ঘণ্টার এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত মালিকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মতো কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বীরেশ্বর মিত্রের মালিকানাধীন অন্য একটি হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকে ইতিমধ্যেই আটক করে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে তদন্তকারী দল। এই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে যে চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও প্রশাসনিক গাফিলতির দিকটি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি।

তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হোটেল পরিচালনায় চরম অবহেলা এবং নিরাপত্তা বিধির গুরুতর লঙ্ঘনের ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে এনেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা বীরেশ্বর মিত্রকে পাকড়াও করতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম। অন্যদিকে, ধৃত ম্যানেজার ও কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মালিকের বর্তমান অবস্থান এবং হোটেলের অভ্যন্তরীণ বেআইনি কার্যকলাপ সম্পর্কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি হোটেলে এমন গাফিলতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে গভীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সরাসরি এই ঘটনার কড়া নজরদারি রাখায় পুলিশ প্রশাসন চরম তৎপরতা অবলম্বন করেছে। যত দ্রুত সম্ভব অভিযুক্ত মালিককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। রাজ্যবাসীর নজর এখন এই বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে, যা আগামী দিনে কলকাতার হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।