নিজেকে ‘গর্বিত অন্ধভক্ত’ বলে দাবি ইশার! সপক্ষে সাফাই দিয়ে কার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কঙ্গনা রানাওয়াত?

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি আকর্ষণীয় ভিডিও পোস্ট করে নিজেকে ‘গর্বিত অন্ধভক্ত’ বলে দাবি করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী ইশা কোপিকর। তাঁর সাফ কথা, এই ভক্তি আদতে কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি নয়, বরং দেশের বর্তমান পরিবর্তন ও অভাবনীয় উন্নতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা থেকে জন্ম নিয়েছে। তাই নিজেকে অন্ধভক্ত তকমা দিতে তিনি একবিন্দুও কুণ্ঠিত নন। ইশার এই আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাহসী বক্তব্যকে এবার প্রকাশ্যে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন আরেক বিতর্কিত ও প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। ইশার পোস্ট করা সেই আলোচিত ভিডিওর স্ক্রিনশট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে কঙ্গনা লিখেছেন যে এই ভাবনাটি তাঁর কাছে অত্যন্ত সুন্দর ও বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

নিজের অতীত জীবনের একাধিক আন্দোলন ও অভিজ্ঞতার কথা টেনে এনে কঙ্গনা জানান যে তিনি হাই স্কুলে পড়ার সময় এক শিক্ষকের শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে মুম্বইয়ের ২৬/১১-এর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা থেকে শুরু করে মর্মান্তিক নির্ভয়া কাণ্ডের বিরুদ্ধেও তিনি সর্বদা সামনে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। কঙ্গনা আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমানে তাঁর সঙ্গে যারই সাক্ষাৎ হয়, তাঁর কাছেই তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে একজন ‘অন্ধভক্ত’ হিসেবে পরিচয় দেন। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, তিনি নিজের দেশ, দেশের মাটি এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন।

এর আগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে ইশা কোপিকর বলেছিলেন যে, দেশকে ভালোবেসা এবং তার সর্বাঙ্গীন প্রগতি কামনা করা যদি কারও কাছে ‘অন্ধভক্তি’ বলে মনে হয়, তবে তিনি সানন্দে সেই পরিচয় গ্রহণ করতে প্রস্তুত। সরকারের যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের সঙ্গে সুস্থ দ্বিমত পোষণ করা কিংবা প্রশ্ন তোলার গণতান্ত্রিক অধিকার নিজের জায়গায় বজায় রেখেই দেশকে নিঃশর্তভাবে ভালোবাসা যায়। নিজের জন্মভূমি বা দেশ নিয়ে গর্ব প্রকাশ করতে তিনি বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন। উল্লেখ্য, এর আগে যন্তর মন্তরে জেন জি প্রজন্মের আন্দোলন ও ছাত্র-ছাত্রীদের ভাষা প্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করে চর্চায় এসেছিলেন কঙ্গনা, এমনকি তাঁদের ‘নর্দমার কীট’ বলতেও পিছপা হননি তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর এই ধরনের আবেগঘন এবং বিস্ফোরক মন্তব্য সবসময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্কের ঝড় তোলে। দুই প্রথম সারির অভিনেত্রীর এই দেশপ্রেম ও অন্ধভুক্তি সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য বর্তমানে বিনোদন দুনিয়া ছাপিয়ে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।