গভীর রাতে রণক্ষেত্র যাদবপুর! ABVP-SFI সংঘর্ষে উত্তাল ক্যাম্পাস, গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে ফের চরম উত্তেজনা ছড়াল। এবিভিপি (ABVP) এবং এসএফআই (SFI) সহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও হাতাহাতির জেরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পুরো চত্বর। এসএফআই-এর ডাকা জেনারেল বডির (GB) মিটিং ডাকার এক্তিয়ার নিয়ে মূল বিরোধের সূত্রপাত হয়। এবিভিপি সমর্থকরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাতে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়।

এবিভিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের প্রতিবাদী ও শান্তিপূ্র্ণ কর্মসূচির সময় বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা অতর্কিত চড়াও হয়। এই ঘটনায় তাদের ৬ থেকে ৭ জন সমর্থক গুরুতর আহত হন এবং তাদের কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে (KPC Medical College) নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এরপর তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপি ও এবিভিপি কর্মীরা যাদবপুর থানার সামনে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাত সাড়ে বারোটার পর এবিভিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারী এবং রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একদল সমর্থক যাদবপুর থানা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে পৌঁছন। বন্ধ গেট ধাক্কা মেরে খুলে তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করেন এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

পুরো ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি পুরো ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপি ও এবিভিপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির কিছু ছাত্র নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার সময় এবিভিপির বহিরাগত ও গুণ্ডারা এসে অশান্তি সৃষ্টি করে। তিনি আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে হামলাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন এবং সুজন চক্রবর্তী ও তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন আক্রমণ চালাচ্ছেন। সৃজনের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রভোট ঘোষণা করার সাহস না পেয়ে মাঝরাতে এই ধরনের তাণ্ডব চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty