বীরভূমে বড় ধাক্কা! অনাস্থা ভোটের আগেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ ছাড়লেন কাজল শেখ

বীরভূম রাজনীতিতে এক বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। আগামী ২৩ তারিখ নিজের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগেই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কাজল শেখ। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সম্প্রতি দলীয় স্তরে বিভিন্ন পালাবদল ও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের জেরে বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখের অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি ও দলের নির্দিষ্ট অংশের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ ঘিরে তৈরি হওয়া দূরত্ব এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদের সদস্যদের একাংশের অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল। আগামী ২৩ তারিখে এই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার ঠিক আগেই সভাধিপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে সমস্ত জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিলেন তিনি।প্রসঙ্গত, বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে কাজল শেখের ভূমিকা বরাবরই চর্চায় থেকেছে। জেলার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক স্তরে তাঁর প্রভাব এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের গুঞ্জন বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। তৃণমূলের অন্দরে বিভিন্ন গোষ্ঠীকোন্দল ও ক্ষমতার ভারসাম্যের লড়াইয়ে এই পদত্যাগ এক বিরাট মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে তাঁর এই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ২৩ তারিখের বৈঠকের পর বীরভূম জেলা পরিষদের পরবর্তী নেতৃত্ব কোন দিকে মোড় নেয় এবং জেলা রাজনীতির এই জটিল সমীকরণ আগামী দিনে কোন নতুন রূপ নেয়।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty