রাজ্য জুড়ে চা-বাগানে পিএফ দুর্নীতি! আলিপুরদুয়ারের নিমতিঝোড়া এস্টেটের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল জলপাইগুড়ি পিএফ অফিস

উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) বা ভবিষ্যনিধির বকেয়া টাকা জমা না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে এবার আরও এক চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করল প্রশাসন। আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের মেসার্স খয়েরবাড়ি টি-কোম্পানির অধীনস্থ নিমতিঝোড়া টি-এস্টেটের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে জলপাইগুড়ি রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড দপ্তর। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পিএফ দপ্তরের পক্ষ থেকে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় এফআইআর দায়েরের ঘটনা।
জলপাইগুড়ি রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে কর্মচারীদের মাসিক বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের নির্ধারিত অংশ কেটে নিয়েছে। কিন্তু সেই সংগৃহীত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারীদের ব্যক্তিগত পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করেনি। এই তছরুপের মোট পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮১ হাজার ১২৯ টাকা বলে জানিয়েছে পিএফ দপ্তর।
জলপাইগুড়ি রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড আধিকারিক পবন কুমার বনসাল এপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “আমরা আলিপুরদুয়ার জেলার নিমতিঝোড়া চা-বাগানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা করেছি। এর আগে একই জেলার সুভাষিনী চা-বাগানের বিরুদ্ধেও অনুরূপ আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছিল। কর্মচারীদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়ার পরেও তা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা না দেওয়ার অভিযোগে আমরা এই এফআইআর করেছি। এর আগে জলপাইগুড়ি রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড দফতর এফআইআর দায়ের করার পর চা-শ্রমিকদের ১৫ কোটি টাকার বেশি বকেয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই আলিপুরদুয়ার জেলার বিজয়নগর টি-কোম্পানি লিমিটেডের অধীন মেসার্স সুভাষিনী টি-এস্টেট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও হাসিমারা ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেছিল জলপাইগুড়ি প্রভিডেন্ট ফান্ড দপ্তর। সেই মামলাতেও শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৭৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৯৯৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু জমা দেওয়া হয়নি।
উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের পিএফ সংক্রান্ত বকেয়া অর্থ উদ্ধার এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিনের। শ্রমিক সংগঠনগুলি এই বকেয়া মেটানোর দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং চা-বাগান মালিকদের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের সমস্ত অর্থ অবিলম্বে পরিশোধ করার জন্য কঠোর একমাসের সময়সীমা বা ‘আল্টিমেটাম’ বেঁধে দিয়েছিলেন। প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে চা-বাগান মালিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।