“২০ বছর পর কলকাতায় তসলিমা!”-‘আল্লাহর শত্রু’—মন্তব্য করে বিস্ফোরক সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী

২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়ার প্রায় দুই দশক পর ফের শহর কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন বিতর্কিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ অগাস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তসলিমার এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে নতুন করে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই সফরের তীব্র বিরোধিতা করেছেন জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।

সিদ্দিকুল্লাহর বিস্ফোরক মন্তব্য: সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তসলিমা নাসরিনকে ‘আল্লাহ ও প্রিয় নবীর শত্রু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “এই সরকার মুসলমানদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। ২০০৭ সালে তাঁর ‘দ্বিখণ্ডিত’ বইকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি হয়েছিল, তা নতুন করে উসকে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি কি তসলিমা নাসরিনকে এনে বাংলার উন্নয়ন করবে? রাস্তা, জল বা কর্মসংস্থান—কোনটি হবে তাঁর মাধ্যমে? এটা কি ‘আ বায়েল মুঝে মার’ (এসে আমাকে আঘাত করো) পরিস্থিতি তৈরি করা নয়?”

নওশাদের নিশানায় বিজেপি: তসলিমার সফর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও। তাঁর কথায়, “বিজেপি সরকার তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন মুসলমানদের ‘টাইট’ দেওয়াকেই তারা উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে ধরে নিয়েছে। তসলিমা নাসরিন ইসলাম-বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত, তাঁকে এনে বিজেপি মূলত মুসলিম জনমানসে আঘাত করতে চাইছে।”

অতীতের প্রেক্ষাপট: ২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাস ঘিরে উত্তাল হয়েছিল কলকাতা। বাম জমানায় প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী নামাতে হয়েছিল। বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং তসলিমাকে শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও তিনি কলকাতায় আসার অনুমতি পাননি।

বর্তমান পরিস্থিতি: রবীন্দ্র সদনের এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর তসলিমার এই ফেরা এবং বিজেপি শাসিত বাংলায় তাঁর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র জল্পনা।