ভিয়েতনাম বিমানবন্দরে বিদেশিদের কাণ্ড! ভারতীয়রা বসে থাকলে কি ট্রোল হতো? তুঙ্গে বিতর্ক!

ভিয়েতনাম বিমানবন্দরের একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে জনপরিসরে মানুষের আচরণ এবং তথাকথিত ‘সিভিক সেন্স’ বা নাগরিক সচেতনতা নিয়ে এক তীব্র বিতর্ক। দক্ষিণ কোরিয়া নিবাসী এক ভারতীয়র পোস্ট করা এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দরের ভেতরে মেঝেতে অনেক যাত্রী বসে রয়েছেন এবং কেউ কেউ সেখানে বসেই খাবার গ্রহণ করছেন। ভিডিও নির্মাতার দাবি, এটি তার কোরিয়াগামী ফ্লাইটের আগের দৃশ্য। ভিডিওটি শেয়ার করে ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন—যদি এই একই দৃশ্য কোনো ভারতীয়র ক্ষেত্রে দেখা যেত, তবে কি ইন্টারনেট জুড়ে তার নাগরিক সচেতনতা বা আচরণের মান নিয়ে শোরগোল পড়ে যেত না? তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, কোনো যাত্রীর জন্য যদি বসার জায়গা বরাদ্দ না থাকে বা কেউ ক্ষুধার্ত থাকেন, তবে মেঝেতে বসে খাওয়া বা বিশ্রাম নেওয়াকে অসামাজিক কাজ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, এর সঙ্গে ‘সিভিক সেন্স’ এর অভাবের কোনো যোগসূত্র নেই।

এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই ধরনের মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। একদল ব্যবহারকারী ভিডিও নির্মাতার এই যুক্তির সাথে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, ভারতীয়রা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের দেশের মানুষের সমালোচনা করতে গিয়ে অতিরিক্ত তৎপরতা দেখান, যা অনভিপ্রেত।

অন্যদিকে, বিতর্কের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা নেটিজেনদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, বিষয়টি কেবল মেঝেতে বসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেই দাবি করেছেন, ভারতীয়দের সমালোচনা করার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে—যেমন অতিরিক্ত উচ্চস্বরে কথা বলা, চারপাশ নোংরা করা কিংবা শৃঙ্খলার অভাব। তাদের যুক্তি, ভিডিওতে দৃশ্যমান বিদেশিরা অনেক শান্ত পরিবেশে রয়েছেন, যা তাদের নাগরিক সচেতনতার পরিচয় দেয়। তবে ভিডিও নির্মাতার প্রশ্ন, শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় মেঝেতে বসলে কি সেটাকেও একই চোখে দেখা হবে? এই প্রশ্নটিই এখন অনলাইন জগতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি বুঝিয়ে দেয় যে, বিশ্বের দরবারে নিজেদের আচরণের পরিমাপ করার পদ্ধতি বা দৃষ্টিভঙ্গি দেশভেদে কতটা আলাদা হতে পারে।