শিল্পায়নের নয়া ভোর! ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে ঐতিহাসিক মাস্টারপ্ল্যান রাজ্যের

পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের শিল্পখরা কাটিয়ে রাজ্যের বুকে শিল্পায়নের নয়া জোয়ার আনার বার্তা দিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। শুক্রবার অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল নতুন কারখানার উদ্বোধন নয়, বরং শিল্পের মাধ্যমে স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা ভেঙে বাংলা যে শিল্পোন্নয়নের পথে দ্রুতগতিতে হাঁটছে, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, “গত পনেরো বছর তো বটেই, গত কয়েক দশক ধরেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের গতি থমকে ছিল। কিন্তু গত তিন মাসে চিত্রটা আমূল বদলেছে।” তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক শিল্প প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ, শিল্পপার্ক এবং উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। শিল্পমন্ত্রী মনে করেন, শিল্প মানেই কেবল ইট-কাঠের কারখানা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লক্ষাধিক মানুষের রুটি-রুজি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ভিনরাজ্যে কর্মরত বাঙালি শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর অঙ্গীকার। কাজের সন্ধানে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, কর্ণাটক বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে গিয়ে বাংলার মানুষ যে দীর্ঘ লড়াইয়ের মুখোমুখি হন, তা থেকে তাঁদের মুক্তি দিতে চায় সরকার। তাপস রায়ের কথায়, “আমরা এমন একটি শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যাতে বাংলার ছেলেমেয়েদের আর পরিবার ছেড়ে দূরে থাকতে না হয়। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে কেউ যেন কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে বাধ্য না হন, সেটাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান অগ্রাধিকার।”
রাজ্যের নতুন শিল্পনীতির রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাপস রায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘বিকশিত বাংলা’ ভাবনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শিল্প পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। শিল্প, আধুনিক পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থান—এই তিন ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সরকার আগামী দিনের অর্থনীতির ভীত শক্ত করতে চাইছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রকার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণবঙ্গের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই বিমানবন্দর এক অন্যতম মাইলফলক হতে পারে। বর্তমানে এখান থেকে দেশের বড় শহরগুলোতে পরিষেবা চালু রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নতুন রুট, কার্গো পরিষেবা এবং অতিরিক্ত পরিকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত শুরু হবে। শিল্পমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে জানান, বিমানবন্দরের নিজস্ব পর্যাপ্ত জমি থাকায় সম্প্রসারণে কোনো বাধা নেই। ফলে অন্ডাল বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সব মিলিয়ে শিল্পায়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। শিল্পমহলের মতে, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন যদি সঠিক পথে চলে, তবে বাংলা খুব দ্রুত ভারতের অন্যতম শিল্প-সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হবে। এখন সেই স্বপ্ন পূরণ কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।