সোশ্যাল মিডিয়ায় রোমান্টিক পোস্ট, আড়ালে খুনের ছক! হবু স্ত্রীর পাতা ফাঁদে শেষ পুণের শিল্পপতির ছেলে

মেঘালয় হানিমুন হত্যাকাণ্ডের সেই নৃশংস স্মৃতি ফের ফিরে এল পুণেতে। লোহাগড় দুর্গের গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হওয়া এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্যের পাহাড়। নিহত কেতন বিশাল আগরওয়াল মহারাষ্ট্রের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে। ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে প্রেম, প্রতারণা এবং ঠান্ডা মাথার খুনের এক ভয়াবহ চিত্র। প্রাথমিক ভাবে এটিকে পাহাড়ের ধারে ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে অভিযুক্ত হবু স্ত্রী সিয়া গোয়ালকে জেরা করে পর্দাফাঁস হয়েছে চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের।

জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেতন এবং সিয়ার এনগেজমেন্ট হয়েছিল। আগামী নভেম্বর মাসে রাজস্থানের বিলাসবহুল প্রাসাদে বসত বিয়ের আসর। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য চার্টার্ড বিমান বুক করা থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে কোনো খামতি ছিল না। কিন্তু পর্দার আড়ালে চলছিল অন্য খেলা। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সিয়া গোয়াল মনেপ্রাণে এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু পরিবারকে কিছু না জানিয়ে তিনি চালিয়ে যাচ্ছিলেন দ্বিচারিতার নাটক। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত পোস্ট করতেন হবু স্বামীর সঙ্গে রোমান্টিক ছবি, অথচ অন্দরে চলছিল কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ছক।

তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া তাঁর সহকর্মী চেতন চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। পারিবারিক চাপে কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে না পেরে সিয়া এবং চেতন দুজনে মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার। অপরাধের জন্য বেছে নেওয়া হয় কেতনের জন্মদিন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মদিনের সেলিব্রেশনের অছিলায় কেতনকে নিয়ে যাওয়া হয় লোহাগড় দুর্গে। নির্জন পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার নাম করে নিয়ে গিয়ে কেতনকে খাদে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর সিয়া দাবি করেছিলেন, পাহাড়ের কিনারায় ছবি তোলার সময় ভারসাম্য হারিয়ে কেতন নিচে পড়ে যান। কিন্তু তদন্তকারী অফিসারদের বয়ানে একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। মোবাইল লোকেশন ডেটা, কল রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিয়ার কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীও। পুলিশের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত খুন। সিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় কেতনের মৃত্যুর পরেও আবেগঘন পোস্ট করা আসলে ছিল লোক দেখানো অভিনয়। বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই খুনের ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। লোহাগড় দুর্গের এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।