‘তৃণমূল নাম শুনলেই মানুষ রেগে যাচ্ছে!’ মিড-ডে মিল বিতর্কে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ, দিলেন বড় হুঁশিয়ারি

রাজ্যের মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় ইসকনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এবার এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুধু মিড-ডে মিল নয়, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়েও একহাত নিলেন তিনি। তার দাবি, মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছে শাসক দল, যার ফলে তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকটে।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল পার্টিটাই এবার উঠে যাবে। মানুষ এখন তৃণমূল নামটা শুনলেই রেগে যাচ্ছে।” শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “এখন আর বাইরে বেরোতে পারবেন না ভাইপো।” রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি যে টালমাটাল, তার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

মিড-ডে মিলের দায়িত্বে ইসকনকে আনার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে শোরগোল, তখন দিলীপ ঘোষের মন্তব্য বাড়তি উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে, ইসকনের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দিলে মেনুতে মাছ, মাংস বা ডিমের মতো আমিষ খাবার থাকবে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে সংশয় দানা বেঁধেছে। এছাড়া, সরকারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে যারা মিড-ডে মিলের রাঁধুনি হিসেবে কাজ করছেন, তারা কি চাকরি হারাবেন? এই আশঙ্কাও ক্রমশ বাড়ছে।

এই বিষয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি কোনো আশ্বাসের কথা না শোনালেও, সরকারি নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে প্রশাসন। তিনি বলেন, “সরকার যদি সঠিকভাবে কাজ চালাত, তবে অন্য সংস্থার প্রয়োজন হতো না। এখন তারা সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা লুকাতে নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।”

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। বিশেষ করে ‘ভাইপো’ এবং দলের অস্তিত্ব নিয়ে তার এই তীব্র আক্রমণ শাসকদলের অন্দরেও সমালোচনার ঝড় তুলেছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকার করা হয়েছে, তবে মিড-ডে মিলের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে মন্ত্রীর এই তোপ বিরোধীদের নতুন করে অক্সিজেন দিল। আগামী দিনে এই ইস্যু যে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, ইসকনের তত্ত্বাবধানে মিড-ডে মিলের মেনু কী হয় এবং রাঁধুনিদের ভবিষ্যৎই বা কী দাঁড়ায়।