বিদেশ যেতে মরিয়া অভিষেক! চোখের চিকিৎসার আবেদনে ফেরাল হাইকোর্ট, কী বললেন বিচারপতি?

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই আবেদনে আপাতত সাড়া মিলল না। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন জানানো হলেও, হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই বিদেশযাত্রার আবেদনটি জরুরি শুনানির যোগ্য নয়।
ঘটনার সূত্রপাত, উসকানিমূলক ভাষণ সংক্রান্ত একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। এর আগে কয়লা পাচার মামলায় আদালতের অনুমতি নিয়েই চিকিৎসার জন্য আমেরিকা গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু বর্তমানে বিধাননগর পুলিশে ভোটপ্রচারে তাঁর করা একটি উসকানিমূলক মন্তব্য নিয়ে মামলা চলছে। সেই মামলায় হাইকোর্টের একক বেঞ্চ অভিষেককে রক্ষাকবচ দিলেও, তাঁর বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আর্জি নিয়েই এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে গিয়েছিলেন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। কিন্তু বিচারপতি এই আবেন খারিজ করে দেন। এই প্রসঙ্গে বিরোধী পক্ষের আইনজীবী দেবজিৎ সরকার কটাক্ষ করে বলেন, “এমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি নিশ্চয়ই রয়েছে, তবে বিদেশ গেলে তিনি আর ফিরে নাও আসতে পারেন।”
একদিকে বিদেশযাত্রার অনুমতি নিয়ে টানাপোড়েন, অন্যদিকে সিআইডির নজরে তৃণমূল সাংসদ। সূত্রের খবর, আগামী ৩০ জুন বিধাননগর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হতে পারে। গত ১৫ মে রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিষেকের ‘ডিজে’ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে সেই মামলাটি সিআইডির হাতে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে অভিষেককে টানা সাড়ে ৬ ঘণ্টা জেরা করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরার সময় সাংসদকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল—এই ‘ডিজে’ মন্তব্য কি আগে থেকে স্ক্রিপ্টেড ছিল? কাদের উদ্দেশ্য করে তিনি এই বক্তব্য রেখেছিলেন? এই ধরনের মন্তব্য করার পরিণতি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না? পাশাপাশি, রাজনৈতিক বক্তব্য নাকি উস্কানি—এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে তদন্তকারীদের প্রশ্ন ছিল, অশান্তি ছড়াতে পারে জেনেও কেন এমন মন্তব্য করা হলো?
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ বাড়ছে। একদিকে বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ, অন্যদিকে সিআইডির কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আগামী কয়েকদিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আদালতের নির্দেশ এবং সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে রাজ্য রাজনীতি।