গাজিপুরে এক হোটেল মালিকের হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জোরদার করেছে ‘অপারেশন বজ্রপথ’ বা ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। বারাণসী রেঞ্জের ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণের নির্দেশে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য হলো সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে গড়ে ওঠা অপরাধী চক্রগুলোকে সমূলে বিনাশ করা। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই এবার পুলিশের রাডারে উঠে এসেছে দুল্লাপুর থানা এলাকার কুখ্যাত ‘হান্টার গ্যাং’।
গাজিপুরের পুলিশ সুপার ডা. ইরাজ রাজার তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ৪৯টি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে কাটরা গ্যাং, মহাকাল গ্যাং, ফারসা গ্যাং ও ৩১৫ গ্যাংয়ের মতো চক্রগুলো দীর্ঘ সময় ধরে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে আসছে। পুলিশি তদন্তে এই গ্যাংগুলোর সঙ্গে মোট ৪০১ জন অপরাধীর যোগসাজশ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে।
নতুন করে প্রকাশ্যে আসা ‘হান্টার গ্যাং’ মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণদের প্রলুব্ধ করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা সাধারণ পথচারীদের ওপর অকারণে সহিংসতা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিত। শুধুমাত্র এলাকায় ‘দাদা’গিরি বজায় রাখতে এবং নিজেদের প্রভাব জাহির করতে তারা নিয়মিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতো।
পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, সন্তোষ রাজভরের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গ্যাংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। সন্তোষের পাশাপাশি ভোলু বিশ্বকর্মা, ভোলু পান্ডে, আমান যাদব এবং পিন্টু যাদবের নামও উঠে এসেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯১(২), ১১৫(২), ৩৫২ এবং ৩৫১(৩) ধারায় কঠোর মামলা দায়ের করেছে দুল্লাপুর থানা।
বর্তমানে পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জেলায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বিশেষ অভিযান কোনোমতেই থামবে না। ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি সক্রিয় গ্যাংকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।





