শেষ হল তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা! কবে আসছে ৮তম সিপিসির চূড়ান্ত সুপারিশ? জানুন বিস্তারিত

অষ্টম বেতন কমিশন বা অষ্টম সেন্ট্রাল পে কমিশন (৮ম সিপিসি) এই সপ্তাহে তথ্য জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে, কমিশন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষগুলির কাছ থেকে পরামর্শ এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া গত ১৫ জুন সফলভাবে শেষ করেছিল। তবে, তথ্য জমার পর্ব শেষ হলেও কমিশনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা প্রক্রিয়া এখনও অবিরামভাবে চলছে। কারণ এই প্যানেলটি ২০২৬ সালের আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন দিল্লি, চেন্নাই, পুদুচেরি এবং চণ্ডীগড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং রাজ্য পরিদর্শনের নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মাসে কমিশন দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের (ইউটি) বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রকগুলির পক্ষ থেকে অনলাইন ডেটা পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার শেষ তারিখ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ধার্য করেছিল। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ্বভাবে সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট অতিরিক্ত সময় পেয়েছিল। সেই সময় কমিশন অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল যে শুধুমাত্র নির্ধারিত অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমেই সমস্ত তথ্য ও ডেটা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি কমিশন আরও অত্যন্ত জোরালোভাবে জানিয়েছিল যে কাগজের ডেটা, এক্সেল শিট, কোনো ধরনের হার্ড কপি কিংবা ইমেল মারফত পাঠানো তথ্য একেবারেই বিবেচনা করা হবে না।

কমিশনের এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তগুলি দেশের ১ কোটিরও বেশি ব্যক্তির উপর অত্যন্ত সরাসরি ও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৫০ লক্ষ সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগী, যাদের ভেতরে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মী, রেলকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সময়মতো মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR) বৃদ্ধির ফলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষ সকলেই নানাভাবে উপকৃত হবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, অষ্টম বেতন কমিশন চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে আসছে এবং এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পরিদর্শন ও বৈঠক সম্পন্ন করেছে। ইতিমধ্যে গত সপ্তাহে কমিশন চণ্ডীগড়, দিল্লি, চেন্নাই এবং পুদুচেরিতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকের বিস্তারিত রিপোর্ট যথাযথভাবে জমা দিয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমিশন গঠনের পর প্রায় ১৮ মাস সময়কালের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর সুনির্দিষ্ট অর্থ হল এই প্যানেলের মূল্যবান সুপারিশগুলি আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে। বর্তমানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং মহলের দেওয়া সুচিন্তিত পরামর্শ এই কমিশনের আগামী দিনের আলোচনাকে সঠিক রূপ দিতে এক অত্যন্ত মূল ভূমিকা পালন করবে।