সোনা-রুপোর দামে পতন, তবে হু হু করে বাড়ছে তামার দাম! কেন এই রেকর্ড লাফ?

একদিকে যখন সোনা এবং রুপোর দামে পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঠিক তখনই উলটো ছবি দেখা গেল তামার বাজারে। হু হু করে বাড়তে থাকা তামার দাম এখন সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিযোগিতায় গোটা বিশ্বে তামার গুরুত্ব এক লাফে বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রিড, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), রিনিউবল এনার্জি প্রকল্প থেকে শুরু করে এআই-চালিত ডেটা সেন্টার—সবক্ষেত্রেই তামার ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আর তার ফলেই লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী এর চাহিদা ও দাম।
রেকর্ড গড়েছে ভারতের বাজার ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ
বর্তমানে ভারতেও তামার চাহিদা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্যের দামে। চলতি অগাস্ট মাসে ভারতে তামার ফিউচার্সের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১,৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। পাশাপাশি, লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ (LME)-এর আন্তর্জাতিক বাজারেও তামার দাম রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ১৭ আগস্ট এমসিএক্স-এ তামার কনট্রাক্ট প্রতি কেজি প্রায় ১,৪০০ টাকায় ট্রেড করেছে।
সাধারণত তামার দাম বাড়লে এর মাধ্যমে পণ্য প্রস্তুতকারী কারখানাগুলির লাভের মার্জিন কমে যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম কমার জন্য বসে থাকতে রাজি নয় এই সমস্ত সংস্থাগুলি। বরং দ্রুত তামা হাতে পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত দাম দিতেও পিছপা হচ্ছে না তারা। সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করলে ক্রেতারা মুখ ফেরাতে পারেন, এই আশঙ্কা থেকেই বেশি দামে তামা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন নির্মাতারা।
হঠাৎ কেন এই রেকর্ড চাহিদা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন তামার খনি তৈরি করা অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বা সাপ্লাই না থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সংস্থা এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল (S&P Global)-এর অনুমান বলছে, বিশ্বে তামার চাহিদা ২০২৫ সালের প্রায় ২৮ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ২০৪০ সালের মধ্যে ৪২ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ আগামী দিনে চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও গভীর। কারণ, দেশের নিজস্ব পরিশোধিত তামার উৎপাদন প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল কপার অ্যাসোসিয়েশন ইন্ডিয়া (International Copper Association India)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতে তামার চাহিদা বার্ষিক ৯.৩ শতাংশ বেড়ে ১৮.৭৮ লক্ষ টনে এসে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণ ক্ষেত্র থেকে শুরু করে সৌর ও বায়ুশক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং ব্যাটারি স্টোরেজের মতো আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে তামার ব্যবহার এক বছরে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়লে এই ধাতু যে আরও মহার্ঘ হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত অর্থনীতিবিদরা।