সুপ্রিম কোর্টে ফের ‘বিশ বাঁও জলে’ ডিএ মামলা, রায় ঘোষণার তালিকায় নেই নাম, বাড়ছে হতাশা

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ কর্মরত এবং সরকারি পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলার রায়দান যেন ‘শেষ হওয়ারই নাম নিচ্ছে না’। সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা এই মামলার রায় কবে ঘোষণা হবে, সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় এই দীর্ঘসূত্রিতা স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের মন খারাপ করে দিয়েছে।

রায় ঘোষণার তালিকায় নেই নাম

সবচেয়ে খারাপ খবর হলো, ১২ এবং ১৩ নভেম্বর মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং পি কে মিশ্রের বেঞ্চে ডিএ মামলার শুনানি বা রায় ঘোষণার কোনও বার্তা নেই। এমনকি সাপ্লিমেন্টারি কজ লিস্টেও ডিএ মামলার রায় ঘোষণার কোনও উল্লেখ নেই। ফলে এই মুহূর্তে রায় কবে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজ্যের সময় প্রার্থনা এবং বিলম্ব

এর আগে শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল ছয় সপ্তাহের মধ্যে ডিএ-র বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সেই নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়। এরপর আদালতের কাছ থেকে আরও ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করে রাজ্য সরকার। আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ পুনর্বিবেচনারও আর্জি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, ডিএ কর্মীদের মৌলিক অধিকার নয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো ভিন্ন।

কর্মচারীদের ক্ষোভ: রাজনৈতিক ও বিচারবিভাগীয় দীর্ঘসূত্রিতা

এই চরম বিলম্বের কারণে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, যে বিচারপতিদের ডিএ মামলার রায় দেবার কথা, তারা খুব সম্ভবত রায় দেবার আগেই অবসর নেবেন। আবার কেউ কেউ এই বিলম্বকে ‘দিদি মোদির খেলা’ বলে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলি ভোটের পরে বেরোনোর ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।

মামলার পটভূমি

কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতেই এই মামলার সূত্রপাত। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (এসএটি), কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। হাইকোর্ট ২০২২ সালে কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়ে বলেছিল, ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মীদের অধিকার এবং কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে তা পাওয়ার যোগ্য। মামলাকারী পক্ষের দাবি, বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডিএ দিতে হবে, প্রয়োজনে বকেয়া ডিএ কিস্তিতে দেওয়া হোক। সেই মামলার চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় এখন দিন গুনছেন লক্ষ লক্ষ কর্মচারী।