বাংলায় পুজোর মুখে ফুঁসে উঠল CJP, বাঁকুড়ায় বিরাট বিক্ষোভ, জেনেনিন কী কী দাবি?

বাঁকুড়ার ইন্দাসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল জেলাশাসকের দফতর চত্বর। গত ১৩ অগাস্ট সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে এদিন বিশাল মিছিল করে জেলাশাসকের দফতরে যান সিজেপি প্রতিনিধিরা। তবে দফতরের কাছে পৌঁছতেই পুলিশি ব্যারিকেডে আটকে যায় সেই মিছিল। এর পরেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে রাস্তায় বসে আমরণ ধর্না ও বিক্ষোভে শাম হন আন্দোলনকারীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ অগাস্ট ইন্দাসে সিজেপি-র এক কর্মীর বাবাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলে গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতের পরিবারের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা জড়িত রয়েছে, যে কারণে পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছে করেই অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের নাগাল না পাওয়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে দলটির নেতৃত্ব। মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভে যোগ দিতে আসার সময় পুলিশি হেনস্থা ও কর্মীদের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সিজেপি প্রতিনিধিরা।
এদিন জেলাশাসকের দফতরের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে মোট তিনটি জোরালো দাবি পেশ করা হয়েছে। প্রথমত, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মৃত আব্দুল মাফিজের বাবা মাফিকের স্মৃতিতে স্থানীয় এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করতে হবে। তৃতীয়ত, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের বা হাইকোর্টের কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলেও নিজেদের দাবিতে অনড় থাকার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব। পুলিশের কোনো ধরনের হুমকি বা বাধার মুখে তারা পিছু হটবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলের নেতারা। যতক্ষণ না পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দেওয়া হয়েছে। এখন এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাতে জল কতদূর গড়ায় এবং রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।