“৩০ বছরের পুরোনো কায়দা নাকি বিষক্রিয়া?”-নামী রিসর্টের আচার দেখে চমকে উঠলেন অফিসাররা!

রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের লাগাতার অভিযানে এবার পর্দাফাঁস হলো বীরভূমের ইলামবাজারের একটি নামী রিসর্টের। বাইরে থেকে অত্যন্ত আকর্ষক এবং বিলাসবহুল এই রিসর্টের অন্দরে ঢুকে এর রান্নাঘরের যে ছবি আধিকারিকদের সামনে এসেছে, তা দেখলে যে কারও পিলে চমকে যাবে। বিলাসবহুল এই পর্যটন কেন্দ্রের অন্দরে বছরের পর বছর ধরে কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে চূড়ান্ত ছেলেখেলা চলছিল, তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন তদন্তকারীরা।

অভিযানের সময় রিসর্টের রান্নাঘরে প্রবেশ করতেই আধিকারিকদের নজরে আসে বড় বড় ড্রামের সারিবদ্ধ স্তূপ। এই ড্রামগুলির ভেতরেই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল প্রচুর আচার এবং তার কাঁচামাল। আর সেই ড্রামের ঢাকনা খুলতেই বেরিয়ে আসে ভয়ংকর চিত্র। ড্রামের গায়ে এবং আচারের ঠিক ওপরে পুরু স্তর হয়ে জমে রয়েছে সবুজ ও সাদা রঙের ফাঙ্গাস বা ছত্রাক। রিসর্টেরই এক কর্মী জেরার মুখে জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে নাকি এই প্রাচীন ও সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতেই আচার ও তার কাঁচামাল জমিয়ে রাখার রেওয়াজ রয়েছে সেখানে!

দৃশ্যটি দেখার পর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অফিসার সঞ্জুয়ারা খাতুন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ৩০ বছর ধরে চলুক আর ৩০০ বছর ধরে চলুক—এই ধরনের ফাঙ্গাসযুক্ত বিষাক্ত খাবার কোনো অবস্থাতেই মানুষের পেটে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না। এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ছত্রাকযুক্ত আচার খেলে যে কারো শরীরে মারাত্মক ফুড পয়জনিং হতে পারে এবং কিডনি থেকে শুরু করে লিভারের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এরপরই তড়িঘড়ি সমস্ত পচা আচার মাটিতে ফেলে তা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন তিনি।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইলামবাজার তো বটেই, গোটা বীরভূম জেলাজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ছত্রাকে ঢাকা ড্রামের এই আচার কীভাবে এতদিন ধরে গ্রাহক ও পর্যটকদের পাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিকরা। যদিও এই বিষয়ে রিসর্টের কর্ণধার দিয়া বিশ্বাস পাল সাফাই দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই আচার তৈরির ইউনিটটি তাদের পরিবারের অন্য এক সদস্য পরিচালনা করেন এবং মূল ব্র্যান্ড বা রিসর্টের সঙ্গে সরাসরি এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, একটি রিসর্টের চত্বরে এই ধরণের অস্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি হলে তার দায় কি কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে? জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের মারাত্মক গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন।