“১১,০০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত বোনাস!”-চাকরিজীবীদের জন্য দুর্দান্ত নিয়ম আনল কেন্দ্র

চাকরিজীবীদের জন্য দারুণ খবর। নতুন শ্রম বিধি বা লেবার কোড অনুযায়ী এবার থেকে নির্দিষ্ট শর্তে নিশ্চিত বোনাস পাবেন বহু কর্মচারী। কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক এই মর্মে দুটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাসে ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বোনাস পাওয়ার যোগ্য হবেন এবং এই বোনাস দেওয়া নিয়োগকর্তার জন্য সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যাঁদের মাসিক বেতন ২১ হাজার টাকার বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে বোনাস দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, উচ্চ বেতনভুক কর্মীদের ক্ষেত্রে কোম্পানি বোনাস দেবে কি না, তা সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

নতুন নিয়মে কারা বোনাস পাবেন? ‘কোড অন ওয়েজেস, ২০১৯’-এর ধারা ২৬(১) অনুযায়ী, মাসে ২১ হাজার টাকার কম বেতন পাওয়া কর্মীরা বোনাস পাওয়ার যোগ্য। তবে এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীকে একটি আর্থিক বছরে অন্তত ৩০ দিন কাজ করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু বেতনসীমার মধ্যে থাকলেই হবে না, নির্দিষ্ট কর্মদিবসের শর্তও পূরণ করতে হবে।

কত টাকা বোনাস মিলবে? নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য কর্মীরা বছরে ন্যূনতম ৮.৩৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে বোনাস পেতে পারেন। তবে বোনাস হিসাবের ক্ষেত্রে পুরো বেতন ধরা হয় না। হিসাবের ভিত্তি হিসেবে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা অথবা সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম মজুরি— এই দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেটিকে ধরা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো কর্মীর মাসিক ন্যূনতম মজুরি যদি ১২ হাজার টাকা হয় (যা ৭ হাজারের বেশি), তবে হিসাবটা হবে— ১২,০০০ × ৮.৩৩% × ১২ = প্রায় ১১,৯৯৫ টাকা। অর্থাৎ এই হিসাব অনুযায়ী বছরে ন্যূনতম প্রায় ১১,৯৯৫ টাকা বোনাস হাতে পেতে পারেন একজন কর্মী। তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই বোনাসের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কবে অ্যাকাউন্টে আসবে টাকা? ‘কোড অন ওয়েজেস, ২০১৯’-এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী, হিসাব বছর শেষ হওয়ার আট মাসের মধ্যে কর্মীর বোনাসের টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। তবে কোনো নিয়োগকর্তা বিশেষ বা পর্যাপ্ত কারণ দেখিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। সবমিলিয়ে নতুন এই শ্রমবিধি দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ চাকরিজীবীদের আর্থিক সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।