‘কাপুরুষ বিচারক হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো!’ স্ত্রীর হত্যাকারীকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে বিচারক যা বললেন, শুনলে বুক কেঁপে উঠবে!

উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলা আদালতে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে এক যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ করলেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারপতি রবি কুমার দিবাকর। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। তবে সাজা ঘোষণার সময় বিচারকের মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ এবং রায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে আসা তথ্য আজ গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। রায়ের বিবরণে বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আদালতের এজলাসে বসে গ্যাংস্টার ও প্রভাবশালী মাফিয়াদের কোনো ধরনের হুমকি বা চাপ বরদাস্ত করবেন না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “কাপুরুষ বিচারক হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেয়ে আমি মৃত্যুবরণ করা অনেক বেশি শ্রেয় বলে মনে করি।”
আদালতের রায়ে উঠে এসেছে পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বিচারব্যবস্থায় মাফিয়া ও প্রভাবশালী অপরাধীদের লাগামছাড়া হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ভয়ঙ্কর চিত্র। বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, একসময় মুজাফফরনগরের আদালতে শওকিন গ্যাং ও ভিকি ত্যাগী চক্রের মতো অপরাধী গোষ্ঠীগুলো কীভাবে আইনের তোয়াক্কা না করে তাণ্ডব চালাত এবং নিজেদের পছন্দমতো আদালত ও জেলা বদল করানোর জন্য বিচারকদের হুমকি দিত। মামলার বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়ার মতো স্পর্ধা দেখিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। মাফিয়াদের এই দৌরাত্ম্য ও বিচারিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাতের তীব্র নিন্দা করে বিচারপতি তাঁর রায়ের একটি অনুলিপি উত্তর প্রদেশের মুখ্য সচিবের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার দুঃসাহস না দেখায়। বিচারপতির এই নির্ভীক ও ঐতিহাসিক রায় দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।