“সাপের সাথে অদ্ভুত মিতালি!”-ভারতের যে গ্রামে ঘরজুড়ে ঘুরে বেড়ায় বিষধর কেউটে!

সাপ দেখলেই যেখানে সাধারণ মানুষের শিরদাঁড়া দিয়ে ভয়ের ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়, সেখানে ভারতের মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার ‘শেঠফল’ (Shetfal) গ্রামটি যেন এক ব্যতিক্রমী বিস্ময়। এই গ্রামটি দেশ-বিদেশে ‘সাপের গ্রাম’ বা ‘স্নেক ভিলেজ অব ইন্ডিয়া’ নামেই পরিচিত। এখানে বিষধর কেউটে সাপ কোনো আতঙ্কের কারণ নয়, বরং তারা গ্রামবাসীদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মানুষ ও সাপের অদ্ভুত সহাবস্থান: শেঠফল গ্রামে মানুষ ও সাপের সম্পর্ক কোনো ভয় বা লড়াইয়ের নয়, বরং গভীর বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই সাপের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বা ‘কুঠুরি’ রাখা থাকে। ঘরের এক কোণে তৈরি এই পবিত্র স্থানে সাপেরা কোনো বাধা ছাড়াই নিশ্চিন্তে আশ্রয় নেয়। এখানে সাপকে কেউ তাড়ায় না, বরং ঘরের সদস্যের মতোই তাদের অবাধ বিচরণ করতে দেওয়া হয়।
ভয়ের বদলে ভক্তি: কৃষিপ্রধান এই গ্রামে কেউটের অবাধ চলাফেরা এখানকার বাসিন্দাদের কাছে স্বাভাবিক বিষয়। বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের জোরেই সাপ ও মানুষ এখানে এক ছাদের নিচে শান্তিতে বসবাস করে। গ্রামের মানুষের দাবি, পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পারস্পরিক এই সম্পর্কের কারণেই সাপ তাদের কোনো ক্ষতি করে না। নাগপঞ্চমীর মতো উৎসবে সাপ পূজার যে ঐতিহ্য সনাতন ধর্মে রয়েছে, তা এখানে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কতা: এই বিস্ময়কর গ্রামটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ভিড় করেন। তবে গ্রামটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নির্দেশিকা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
সম্মান প্রদর্শন: গ্রামবাসীদের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রাখা আবশ্যক। সাপের সাথে অতি উৎসাহে মেলামেশা বা তাদের বিরক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
নিরাপদ দূরত্ব: স্থানীয়রা সাপের ভাষা বুঝলেও, পর্যটকদের কাছে কেউটে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সব সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
পোশাক ও শব্দ: গ্রামে হাঁটার সময় অতিরিক্ত শোরগোল করা যাবে না। এছাড়া, সরু গলি বা কাঁচা রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা নিষিদ্ধ, তাই অবশ্যই ঢাকা জুতো পরতে হবে।
প্রকৃতি ও মানুষের এই অনন্য মিতালি দেখতে চাইলে শেঠফল গ্রামটি অবশ্যই আপনার ভ্রমণ তালিকার এক অদ্ভুত গন্তব্য হতে পারে, তবে মনে রাখবেন—সতর্কতাই এখানে নিরাপত্তার চাবিকাঠি।