চার বছর পর অগ্নিবীরদের বিদায়লগ্নেই কি বদলাবে নিয়ম? উত্তপ্ত হতে চলেছে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘অগ্নিপথ’ নিয়োগ প্রকল্প এখন এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষার মুখে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নৌবাহিনীর প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের চার বছরের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এর কিছু মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রথম ব্যাচগুলোও তাদের মেয়াদ পূর্ণ করবে। ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পটি চালুর পর থেকেই যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তা এবার নিছক জল্পনা বা রাজনৈতিক অভিযোগের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়েছে। ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা যে ফের মাথাচাড়া দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
প্রকল্পটি ঘোষণার সময় দেশজুড়ে যে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তার মূল কারণ ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। বিরোধীদের দাবি ছিল, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি ছিল, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও তরুণ, দক্ষ এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তোলার লক্ষ্যে এটি এক যুগান্তকারী সংস্কার। বর্তমানে প্রতিটি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে নিয়মিত চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম রয়েছে, বাকি ৭৫ শতাংশকে মেয়াদ শেষে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে অন্তত ৫০ শতাংশ অগ্নিবীরকে স্থায়ী করার পক্ষে মত প্রকাশ করে আসছেন।
প্রকল্পটি যখন শুরু হয়েছিল, তখন অভ্যন্তরীণ বৈঠকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, প্রাথমিক পর্যায়ের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীকালে স্থায়ী করার হার বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকার তখন থেকেই জানিয়েছিল, পরিস্থিতির প্রয়োজনে এই নীতিতে রদবদল সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে যে সংশয় বা অসন্তোষ রয়েছে, তা মেটাতে সরকার সেপ্টেম্বরের আগে বড় কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’বছর আগে কার্গিল বিজয় দিবসের ভাষণে স্পষ্ট করেছিলেন, অর্থ সাশ্রয় এই প্রকল্পের লক্ষ্য নয়; বরং বাহিনীরুণত্ব বজায় রাখা এবং যুদ্ধ-প্রস্তুতি জোরদার করাই মূল উদ্দেশ্য। এই বয়ানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে যে, পেনশন ও বেতন বাবদ খরচ কমাতেই এই প্রকল্প আনা হয়েছে। সরকার যদি এখন ২৫ শতাংশের বেশি অগ্নিবীরকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা বিরোধীদের সেই অভিযোগের পাল্টা জবাব হিসেবেই গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে সরকার প্রমাণ করতে পারবে যে, আর্থিক চাপ কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং অপারেশনাল প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংসদীয় বিতর্কের মুখে সরকার তার এই বিতর্কিত নিয়োগ নীতিতে কোনো নমনীয়তা দেখায় কি না।