দিল্লির দাঙ্গায় আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মা হত্যা, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় শোকাহত পরিবার

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ২৬ বছর বয়সী আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার নৃশংস হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সোমবার (১৩ জুলাই) করকরডুমা আদালত এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেনসহ পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালতের এই রায়ের পর মৃত অঙ্কিতের ভাই অঙ্কুর শর্মা ফের সরব হয়েছেন। তিনি দোষীদের কঠোরতম শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত অঙ্কুর বলেন, “আদালত ও সরকারের উচিত এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা, যাতে দোষীদের ফাঁসি হয়। আমরা চাই না আমাদের মতো অন্য কোনো পরিবারকে তাদের সন্তান বা ভাইকে হারাতে হোক।” তিনি জানান, তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত, তবে এর জন্য দেশবাসীর সমর্থন প্রয়োজন। কারণ দোষীরা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করবে।
অঙ্কিত শর্মার হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন তাঁর ভাই। তিনি বলেন, “দাঙ্গাকারীরা অঙ্কিতের পরিচয় নিশ্চিত করার পরই তাঁকে হত্যা করেছিল। তারা প্রথমে জেনেছিল সে হিন্দু এবং পুলিশে কর্মরত। আইবি অফিসার হিসেবে তাঁর আসল পরিচয় জানার আগেই কেবল ধর্মীয় ও পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।” অঙ্কুর জানান, আইবি থেকে তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি এসেছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে অঙ্কিত সেই সময় কর্তব্যরত ছিলেন।
অঙ্কিতের স্বপ্ন ও স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে অঙ্কুর বলেন, ছোটবেলা থেকেই অঙ্কিতের লক্ষ্য ছিল দেশের সেবা করা। সশস্ত্র বাহিনী বা পুলিশে যোগ দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকেই সে কঠোর পরিশ্রম করে অল্প বয়সে চাকরি পেয়েছিল। সে ছিল অত্যন্ত মিশুক এবং পরোপকারী। অঙ্কুর আরও বলেন, “অঙ্কিত দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছে। আমরা আজ একা, তাই দেশের মানুষের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সমর্থন ছাড়া ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন।”
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিএএ বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় একটি নর্দমা থেকে অঙ্কিত শর্মার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, দাঙ্গাবাজরা ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে অঙ্কিতকে ৫১ বার আঘাত করেছিল। মাথা, মুখ, বুক ও পিঠ—শরীরের প্রতিটি জায়গায় ছিল গভীর ক্ষতচিহ্ন। এই নৃশংসতা আজও শিহরণ জাগায়। আদালত এখন সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে, যা মৃত অঙ্কিতের পরিবারের কাছে ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ।