শীতের আমেজ উধাও! বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের ধাক্কায় ফের বাড়ছে পারদ, দিনে কমবে ঠান্ডা

হেমন্তকালে যে হালকা ঠান্ডা আমেজ রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছিল, তা এবার থমকে গেল। নতুন সপ্তাহে পারদ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তবে ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। দিনের বেলায় ঠান্ডার অনুভূতি অনেকটাই কমে যাবে। ইতিমধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অল্প অল্প করে বাড়তে শুরু করেছে এবং তা আপাতত ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে।

পারদ চড়ার কারণ কী?

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের কারণেই এই পারদের ওঠানামা। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপ অঞ্চলটি বর্তমানে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে।

নিম্নচাপটি দূরে থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে পড়বে না। তবে এই সিস্টেমের কারণে রাজ্যে জলীয় বাষ্প প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির ফলে উত্তুরে হাওয়া বাধা পাচ্ছে। আর এই কারণেই রাতের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং ঠান্ডার আমেজ কমে যাচ্ছে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস

আপাতত উত্তর বা দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

দক্ষিণবঙ্গ: আজ, সোমবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা দেখা যাবে। আগামী চার দিন রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে যে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছিল, তা কিছুটা ম্লান হবে।

উত্তরবঙ্গ: উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও সোমবার থেকে একইভাবে রাতের তাপমাত্রা বাড়বে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর এখনই বঙ্গে জাঁকিয়ে শীত পড়ার কোনও পূর্বাভাস দিতে নারাজ। তাদের মতে, শীত পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে আরও অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগবে। আপাতত এই হালকা ঠান্ডার ওঠানামার মধ্যে দিয়েই হেমন্তকাল পার করে বঙ্গে শীতের প্রবেশ ঘটবে।

কলকাতার আবহাওয়া

সোমবার দিনের আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে, তবে ভোরের দিকে কুয়াশা দেখা যাবে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আজকের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৭ ডিগ্রি এবং ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে।

রবিবারের তথ্য: গতকাল কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৭ ডিগ্রি কম)। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি কম)। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৪৫ শতাংশ।