ট্রাম্পের হুঙ্কারে কাঁপছে বিশ্ববাজার! কয়েক মিনিটে উধাও ৯ লক্ষ কোটি, বড় পতনে সেনসেক্স-নিফটি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে ইতি টানার ঘোষণার পরেই বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। যার আঁচ এসে পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারেও। বুধবার লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স ও নিফটির এই বড় পতন বিনিয়োগকারীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
কীভাবে ধস নামল বাজারে? বুধবারের লেনদেনে সেনসেক্স প্রায় ১,৯০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ে যায়। অন্যদিকে, নিফটি নেমে আসে ২৩,৮০০-র গণ্ডির আশেপাশে। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বাজারমূল্য থেকে মুছে গিয়েছে।
বাজারের এই পতনের নেপথ্যে ৪ প্রধান কারণ:
১. ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বার্তা: ইরানকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের স্পষ্ট ঘোষণা, “তাদের সঙ্গে আলোচনার অধ্যায় শেষ।” মার্কিন বিমান হামলা ও নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব বাজারে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
২. তেলের দামে আগুন: ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। একদিনে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভারত যেহেতু তেলের আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় লগ্নিকারীরা আতঙ্কিত।
৩. রুপির রেকর্ড পতন: বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সুযোগে শক্তিশালী হচ্ছে মার্কিন ডলার। যার জেরে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে (১ ডলার = ৯৫.৫৫ রুপি) নেমে এসেছে। ফলস্বরূপ বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেছেন।
৪. অস্থিরতার ইঙ্গিত (VIX): বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক ‘ইন্ডিয়া VIX’ একদিনে ২৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৪.৬৮-তে পৌঁছেছে। এটি বাজারের ঝুঁকির মাত্রা যে অনেক বেড়েছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ।
কোন কোন খাতে রক্তক্ষরণ? সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে PSU ব্যাঙ্ক, অটোমোবাইল, রিয়েলটি এবং FMCG খাত। মারুতি সুজুকি, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL) এবং বিভিন্ন সরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ারে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। নিফটির PSU এবং প্রাইভেট ব্যাঙ্ক সূচক ২.৫ শতাংশেরও বেশি নিচে নেমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্টেল বা AMD-এর মতো প্রযুক্তি সংস্থাও ৬ থেকে ৯ শতাংশ পতনের সাক্ষী হয়েছে। এখন সমস্ত বিনিয়োগকারীর নজর ওয়াল স্ট্রিটের দিকে। বুধবার মার্কিন বাজার কীভাবে দিন শেষ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে বিশ্ব বাজারের গতিপ্রকৃতি।