“শিশুকে কোলে নিয়ে আকুতি, তবুও থামেনি বর্বরতা!”-মহিলাকে পৈশাচিক মারধরের ভাইরাল ভিডিওয় তোলপাড়

পঞ্জাবের কাপুরথলায় একটি মন্দিরের বাইরে কোলে ছোট শিশুকে নিয়ে বসে থাকা এক মহিলাকে চটি দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া ৩৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, সাদা টি-শার্ট ও কালো হাফ প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি হঠাৎ এগিয়ে এসে নিজের চটি খুলে ওই মহিলার মুখে পরপর আঘাত করতে শুরু করেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে অন্তত নয় বার মহিলার মুখে চটি দিয়ে আঘাত করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওয় আরও দেখা গিয়েছে, মহিলাটি কোল থেকে ছোট শিশুকে নিয়ে হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে রেখেই ফের হামলা চালান। এর পরে অন্য এক মহিলা এবং স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি থামেননি। বরং জনসমক্ষে ওই মহিলাকে লাথি মারতেও দেখা যায় তাঁকে। এই পৈশাচিক কাণ্ড দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আশপাশের মানুষজন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে কাপুরথলার মাতা শ্রী ভদ্রকালী মন্দিরের বাইরে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বিকাশ শর্মা, তিনি শেখুপুরের বাসিন্দা এবং মন্দিরের ঠিক সামনেই একটি দোকান চালান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি মোটরবাইককে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। ওই মহিলার সঙ্গে থাকা কয়েকটি শিশু অভিযুক্তের মোটরবাইকের বিভিন্ন সুইচ নাড়াচাড়া করেছিল বলে অভিযোগ। তা নিয়ে প্রথমে বচসা এবং পরে মহিলা ও অভিযুক্তের স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ওই মহিলার উপর চড়াও হন।

ঘটনার শিকার ওই মহিলা এখনও পুলিশের কাছে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের না করলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কঠোর পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, মহিলা কমিশন এবং মানবাধিকার কমিটিও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। কাপুরথলার ডিএসপি শীতল সিং জানিয়েছেন, ভিডিওর ভিত্তিতে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে সিটি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এর বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষও। মন্দির কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তাঁদেরই এক ভাড়াটে দোকানদার এবং তাঁর বিরুদ্ধে কী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়ে কমিটির বৈঠকে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।