নাইট শিফটে ডিউটি, বন্ধ টয়লেট আর ১০ মিনিটেই মর্মান্তিক পরিণতি! কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত্যুতে চরম চাঞ্চল্য

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান ও প্রখ্যাত নীল রতন সরকার (এনআরএস) মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) কর্তব্যরত ৩০ বছর বয়সী এক নার্স রূপালী বর্মণের মৃতদেহ শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা হাসপাতাল চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার ক্রমবিকাশ ও রহস্য
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে রূপালী বর্মণ তাঁর নাইট শিফট শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রাত ৮টায় তিনি ডিউটিতে যোগ দেন এবং এক রোগীর পরিচর্যাও করেন। এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি এইচডিইউ-এর নিকটবর্তী একটি শৌচাগারে যান।
কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। রাত ১০টা ২৭ মিনিটে বাইরে থেকে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর বাধ্য হয়ে রাত সাড়ে ১০টায় সহকর্মীরা ও হাসপাতালের কর্মীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং রূপালীকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে একটি ট্রলিতে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ইনজেকশনের দাগ ও ফেন্টানিল উদ্ধার
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা পুলিশের হত্যা তদন্ত শাখা (Homicide Branch) এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দ্রুত তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার বাম হাতে সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়ার মতো একটি স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এর পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ফেন্টানিলের (Fentanyl) তিনটি শিশিও উদ্ধার করা হয়েছে। ফেন্টানিল হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সিন্থেটিক ওপিঅয়েড, যা মরফিনের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এবং মূলত তীব্র ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়। উদ্ধার হওয়া শিশিগুলির মধ্যে একটি ব্যবহৃত এবং বাকি দুটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল বলে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের কড়া পদক্ষেপ
পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তরও বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে নিয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে দপ্তরে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শৌচাগারের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।