উড়বে আদালত থেকে বিমানবন্দর! স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন দিল্লির বুকে হাই অ্যালার্ট, আসল সত্য কী?

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক একদিন আগে শুক্রবার রাজধানী দিল্লিতে একের পর এক বোমা হামলার হুমকিতে চরম চাঞ্চল্য ছড়াল। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩, দিল্লি হাইকোর্ট, জামনগর হাউস, ঝান্ডেওয়ালান ফ্ল্যাটেড ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স, সাকেতের জেলাশাসকের দপ্তর এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এসডিএম অফিস—একাধিক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বোমা হামলার হুমকি আসে। হুমকি পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোথাও থেকে কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি।

শুক্রবার সকালে দিল্লি হাইকোর্ট চত্বরে ই-মেলে বোমা হামলার হুমকি আসে। ওই মেলের বিষয়বস্তু ছিল দিল্লি হাইকোর্টে বিস্ফোরণ। পাশাপাশি, দিল্লির একাধিক জায়গায় ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ ছিল সেই মেলের মধ্যে। হুমকি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত চত্বরে পৌঁছে যায় বম্ব স্কোয়াড, স্নিফার ডগ এবং বিশাল পুলিশবাহিনী। শুরু হয় পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি।

একই সময়ে দিল্লির আইজিআই বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনালেও বোমা হামলার হুমকি আসে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বম্ব স্কোয়াড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা দল বিমানবন্দর চত্বরে চিরুনি তল্লাশি চালায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান গেটেও নজরদারি জোরদার করা হয়। তবে তল্লাশিতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু মেলেনি।

বিমানবন্দর ও আদালত ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একই ধরনের হুমকি আসে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানানো হয়েছে, জামনগর হাউস, ঝান্ডেওয়ালান ফ্ল্যাটেড ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স, সাকেতের জেলাশাসকের দপ্তর এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এসডিএম অফিসেও বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি জায়গাতেই দ্রুত ফায়ার টেন্ডার পাঠানো হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি চালায়।

চলতি মাসের ৩ তারিখ দিল্লির মেয়রের দপ্তরে একটি ই-মেল পাঠিয়ে ১৫ অগস্ট লালকেল্লায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই হুমকির পরেও লালকেল্লা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং পরে সেই হুমকি ভুয়ো প্রমাণিত হয়।

আগামিকাল শনিবার দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। প্রতি বছর এই দিনে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলে স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে এমন ধারাবাহিক হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, জনবহুল এলাকা এবং সমস্ত সরকারি দপ্তরে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। লালকেল্লা ও তার আশপাশে ইতিমধ্যেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।

একের পর এক হুমকি আসায় রাজধানীতে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও জায়গা থেকেই বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি প্রতিটি হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকল বা এসওপি মেনে তল্লাশি চালাচ্ছে। হুমকি মেলগুলি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে একই ব্যক্তি বা কোনো নাশকতামূলক গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে একই দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমা হামলার হুমকি আসায় গোটা দিল্লিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।