শহরে ফের অনলাইন প্রতারণার পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৭ প্রতারক! জেনেনিন বিস্তারিত

পশ্চিমবঙ্গের অপরাধ মানচিত্রে একদিকে যেমন সাইবার জালিয়াতদের সূক্ষ্ম নেটওয়ার্ক ধরা পড়ছে, তেমনই অন্যদিকে প্রকাশ পাচ্ছে অর্বাচীন হিংসার ভয়াবহতা। গার্ডেনরিচ থানা এক বিশাল অনলাইন প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে, যেখানে বহু এটিএম ও আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালকের উপর ধারালো অস্ত্রের হামলায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গার্ডেনরিচে ‘অপারেশন সাইবার ক্লিন’: ৭ প্রতারক গ্রেফতার
কলকাতার গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি লাল গাড়িকে (নম্বর WB06K-4104) আটক করে অনলাইন প্রতারণার এই বড়সড় চক্রের হদিশ পায়। গাড়িটিতে থাকা চার যুবক – সহিনুর রহমান ফকির (২৫), শেখ রাহুল (২০), শেখ আসফাক (১৮) ও আশিক মিস্ত্রি (১৯), সকলেই রবীন্দ্রনগর থানার অন্তর্গত সানথপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে একটি ধূসর রঙের ব্যাকপ্যাক উদ্ধার হয়, যার ভিতরে বিভিন্ন ব্যাংকের অসংখ্য এটিএম কার্ড পাওয়া যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই কার্ডগুলি প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই চক্রটি সম্ভবত অর্থের বিনিময়ে এই কার্ডগুলি অন্যদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল, যা অনলাইন জালিয়াতির এক বৃহত্তর নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়।
তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে যেতেই তিনজনের নাম উঠে আসে – শেখ সাহিদ কাদরি (২০), শেখ আলিমুদ্দিন (২১) ও শেখ ফিরোজ (২০), যাদের তিনজনই ওড়িশার ভদ্রক জেলার বাসিন্দা। সেদিনই বিকেল ৫:৪৫ নাগাদ হাওড়ার শিবপুর থানার আওতাধীন আভনি রিভারসাইড মলের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে, গোয়েন্দারা গোলাবাড়ি থানার অধীনে কিংস রোডের নির্মল হোটেলে হানা দিয়ে আরও এটিএম কার্ড, আধার কার্ড ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। এই সমস্ত অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে।
বারুইপুরে নৃশংস হামলা: নাবালক আশঙ্কাজনক, বন্ধুদের দিকেই অভিযোগের তীর
যখন একদিকে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান চলছে, তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার মল্লিকপুরে ঘটে গেল এক নৃশংস হামলার ঘটনা। মঙ্গলবার রাতে মোঃ তানভীর নামে এক নাবালকের উপর মল্লিকপুর গনিমার কাছে দুই দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র নিয়ে হঠাৎই চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তনবিরকে নির্মমভাবে কোপানো হয়। আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই নাবালক সন্ধ্যার পর ঘুরতে বেরিয়েছিল। স্থানীয়রা গুরুতর আহত তনবিরকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। আহত নাবালকের দিদির বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সময় তার সঙ্গে দুই বন্ধু ছিল এবং তারাই কুপিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ। তবে, প্রকৃত তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা জানতে পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।
কলকাতার দুই প্রান্তে এই দুই ভিন্ন অপরাধের চিত্র শহরের বহুমুখী অপরাধ প্রবণতা এবং পুলিশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলিকেই তুলে ধরছে। একদিকে যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সেখানেই ব্যক্তিগত বিবাদ বা হিংসার বশবর্তী হয়ে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।