শত্রুর ঘুম কাড়বে মেটিওর! বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক এই ক্ষেপণাস্ত্র কী কী কাজ করতে পারে, জেনে নিন

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে, আর এই প্রেক্ষাপটে অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে সামনে এসেছে মেটিওর ক্ষেপণাস্ত্র। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি একটি অত্যাধুনিক ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR)’ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।
মেটিওর ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব কী?
মেটিওর ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এমবিডিএ দ্বারা তৈরি একটি যৌথ ইউরোপীয় প্রকল্প। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
বিশাল পাল্লা: এর পাল্লা আনুমানিক ১২০-২০০ কিলোমিটার, যা একে দূর থেকে শত্রুকে আঘাত করার ক্ষমতা দেয়।
অবিশ্বাস্য গতি: এটি একটি র্যামজেট ইঞ্জিন দ্বারা চালিত, যা এর গতিকে ক্রমাগত বাড়াতে থাকে। এর গতিবেগ আনুমানিক ম্যাক ৪, অর্থাৎ শব্দের গতির চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি। এই গতি লক্ষ্যবস্তুর পালানো প্রায় অসম্ভব করে তোলে।
সর্বোচ্চ নির্ভুলতা: মেটিওর উৎক্ষেপণের পরেও লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারে। এর সক্রিয় রাডার সিকার এবং ডেটা লিঙ্ক সিস্টেম এটিকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সাহায্য করে।
ইলেকট্রনিক জ্যাম প্রতিরোধ: এটি ইলেকট্রনিক জ্যামের বিরুদ্ধেও চমৎকার প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখায়, যা একে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কার্যকর করে তোলে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে এর উন্নয়ন শুরু হয়েছিল এবং ২০০৫-২০০৬ সালে এর প্রথম পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এটি নিঃসন্দেহে বর্তমান বিশ্বের আকাশসীমায় বিমান চলাচল এবং সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।