কীভাবে অদিতির মন জয় করেছিলেন দেবরাজ? প্রকাশ্যে এল তাঁদের বিয়ের নেপথ্য কাহিনি

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা ও বিধাননগরের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। আর্থিক অনিয়ম ও আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় বুধবার পুরুলিয়া থেকে তাঁকে পাকড়াও করে এসটিএফ (STF)। দেবরাজের গ্রেফতারির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, পাশাপাশি চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর স্ত্রী ও জনপ্রিয় কীর্তন শিল্পী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়ন।
যেভাবে শুরু প্রেম ও বিয়ে: ২০১৫ সালে ‘সারেগামাপা’-র মঞ্চে অদিতির সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছিলেন তখনকার দাপুটে নেতা দেবরাজ। অদিতির ভক্তিমূলক গান আর কীর্তনের জাদুতে মজে থাকা দেবরাজ যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন অদিতির সঙ্গে। শুরুতে সাড়া না পেলেও, অদিতির মন জয় করতে উপহারের ডালি সাজিয়ে প্রায়ই অদিতির বাড়ি যেতেন দেবরাজ। ধীরে ধীরে অদিতির পরিবারেরও আস্থা অর্জন করেন তিনি। তবে তাঁদের এই সম্পর্ক ভালোবাসার মোড়কে থাকলেও, বিয়েটি ছিল রীতিমতো দেখাশোনা করা—এক্কেবারে ঘরোয়া পদ্ধতিতে। ২০১৮ সালে কলকাতার ইকো পার্কে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা দম্পতি।
আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ও বিতর্ক: গ্রেফতারির পাশাপাশি দম্পতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ১০০ কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তির অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, নির্বাচনের আগে অদিতির হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ গোপন করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজ ও অদিতির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে এসটিএফ। কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচের আর্জি জানালে, আদালত অদিতিকে চার মাসের সন্তানের কথা ভেবে আগাম জামিন দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই গা ঢাকা দেওয়া দেবরাজকে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
রাজনৈতিক ও পারিবারিক ধাক্কা: চলতি বছরের গোড়ায় পুত্রসন্তানের জন্মের পর থেকে অদিতির জীবনে যেমন খুশির হাওয়া ছিল, ঠিক তেমনি ২০২৬-এর নির্বাচনে হারের পর থেকেই পারিবারিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একাধিক ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে তাঁদের। শুধু দেবরাজই নন, অদিতির বিরুদ্ধেও এলাকায় নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগসহ একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, তদন্তে আর কী কী তথ্য উঠে আসে এবং কীভাবে এই আইনি লড়াইয়ের মোকাবিলা করেন এই হাইপ্রোফাইল দম্পতি।