লাড়কি বহিন যোজনায় বড় জালিয়াতি! সরকারি অডিটে বাদ পড়লেন ১০ লক্ষ মহিলা, তালিকায় কারা কারা?

মহারাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাড়কি বহিন যোজনা’-তে বড়সড় দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হলো। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের এক অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—এই প্রকল্প থেকে ১০ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে অযোগ্য হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কোষাগারের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এই বিপুল সংখ্যক মহিলার অধিকাংশেরই পারিবারিক বার্ষিক আয় সরকারের বেঁধে দেওয়া সীমার (২.৫ লক্ষ টাকা) চেয়ে অনেক বেশি। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মহিলারা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। কিন্তু যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, তথ্যের গরমিল করে অনেকেই এই সুবিধা নিচ্ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ‘ইলেকট্রনিক নো ইউর কাস্টমার’ (e-KYC) যাচাইকরণ এবং আয়কর দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে মিল মিলিয়েই এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। এর ফলে প্রকল্পের মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২.৪ কোটি থেকে কমে ১.৬ কোটিতে নেমে এসেছে।

শুধু আয়ের সীমাবদ্ধতাই নয়, বাদ পড়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আরও একাধিক নজিরবিহীন তথ্য। প্রায় ২ লক্ষ মহিলা প্রকল্পের নির্ধারিত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা অর্থাৎ ৬৫ বছর পার করে ফেলেছিলেন। প্রায় ৭৪,০০০ জন ২১ বছরের কম বয়সী হওয়ায় অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় ৪.৪০ লক্ষ সুবিধাভোগী সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সদস্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এমনকি ১.৮০ লক্ষ মহিলাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের নামে ব্যক্তিগত যানবাহন রয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার তালিকায় প্রায় ১৪,০০০ সরকারি কর্মচারী এবং সমসংখ্যক পুরুষকেও চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা অবৈধভাবে এই টাকা নিচ্ছিলেন। কর্তৃপক্ষ এখন এই অযোগ্য প্রাপকদের থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারের (Recovery) প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি, ‘লাড়কি বহিন যোজনা’ ছাড়াও ‘নমো শেতকারি সম্মান যোজনা’ এবং ‘সঞ্জয় গান্ধী নিরাধার যোজনা’-র মতো একাধিক প্রকল্পের সুবিধা একই সঙ্গে নিচ্ছিলেন বহু মানুষ। সরকার জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে যোগ্য প্রাপকরা কেবল একটি প্রকল্পের অধীনেই সহায়তা পাবেন, ডুপ্লিকেট সুবিধা আর মিলবে না।

এই অডিট নিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক আঙিনায় ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে সরকারের এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সুপ্রিয়া সুলের দাবি, ১.২৫ কোটিরও বেশি মহিলাকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের অব্যবস্থাপনার পরিচয় দেয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রাজ্যের আর্থিক চাপের কারণেই সরকার অজুহাত দেখিয়ে সুবিধাভোগীদের সংখ্যা কমাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি কর্তারা সাফ জানিয়েছেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করাই ছিল এই ভেরিফিকেশনের মূল উদ্দেশ্য। গত বছরও একই ধরণের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে দেখা গিয়েছিল ১২,৪৩১ জন পুরুষ এবং ১২,৯১৫ জন সরকারি কর্মচারী এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। এবারের এই বড়সড় ‘সুইপ’ বা ছাঁটাইয়ের পর সরকার তালিকাটি নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy