“ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই নাগরিকত্ব শেষ নয়!” নির্বাচন কমিশনকে বড় সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট!

নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়, শুক্রবার এক মামলার শুনানিতে আরও একবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পশ্চিমবঙ্গের বিতর্কিত ‘এসআইআর’ (SIR) তালিকা মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার শুধুমাত্র ভোটার তালিকা তৈরি, নিয়ন্ত্রণ এবং তা তদারকি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই নাগরিকত্ব কে পাবেন আর কার নাগরিকত্ব যাবে, তা নিয়ে আইনের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার এবং এতে কোনো ধোঁয়াশা থাকা উচিত নয়।

⚖️ “ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই নাগরিকত্ব শেষ হয়ে যায় না”
প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির সময় বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই।

আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায় যে:

যদি কোনো ট্রাইব্যুনাল কোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় (SIR List) অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নির্বাচন কমিশন সরাসরি তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কমিশনকে সেই নাগরিকত্ব নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই কোনো ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব নিজে থেকে বাতিল হয়ে যায় না।

🌾 রেশন ও সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ আদালত
এদিন মামলাকারীদের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের রেশন (PDS), অন্নপূর্ণা যোজনা এবং অন্যান্য জরুরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

আদালত এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে কাউকে মৌলিক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই সংক্রান্ত মূল আবেদনের ওপর বিস্তারিত শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৫ আগস্ট।

আইনি জট ও ট্রাইব্যুনালের কাজের ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্ন
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, বর্তমানে ১৯টি অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল যেভাবে কাজ করছে, তাতে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রচুর অসঙ্গতি এবং অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালগুলোর কাজের গতি ধীর হওয়ায় বহু মামলা ঝুলে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গের এই সংবেদনশীল ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং নাগরিকত্ব ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। আগামী ২৫ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে সব মহল।