ট্রাম্পের দরবারে ‘নো এন্ট্রি’ নেতানিয়াহু? কেন দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের সম্পর্কে বড় ফাটল?

একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বন্ধুত্ব ছিল বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয়। কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনামলে সেই সম্পর্কে গভীর ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। টানা দুই সপ্তাহ চেষ্টা করেও হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাননি নেতানিয়াহু। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজের নির্ধারিত আমেরিকা সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
সফর প্রস্তুতির পরেও কেন এই উপেক্ষা? জানা গেছে, নেতানিয়াহুর সফরের জন্য সমস্ত সরকারি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। বিমানের পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষীদের অগ্রিম দলও ওয়াশিংটনে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করতে হয়। ট্রাম্পের এমন আচরণের পেছনে কেবল প্রোটোকল নয়, বরং গভীর কৌশলগত মতভেদ ও রাজনৈতিক তিক্ততা কাজ করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সম্পর্ক শীতল হওয়ার ৭টি প্রধান কারণ:
ইরান নীতি: ট্রাম্প প্রশাসন এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে নিয়ে উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত আগ্রাসী অবস্থানের পক্ষে, যা ট্রাম্পের কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
লেবানন-সিরিয়া সামরিক অভিযান: মার্কিন প্রশাসন চায় ইসরায়েল লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনুক। কিন্তু নেতানিয়াহু এতে নারাজ, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের নীতির প্রকাশ্যে সমালোচনা: তুরস্কের কাছে F-35 যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। এটি ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ করেছে, কারণ তিনি মনে করেন মিত্র দেশগুলোর মার্কিন নীতি নিয়ে জনসমক্ষে সমালোচনা করা উচিত নয়।
ভুল তথ্যের দাবি: হোয়াইট হাউসের অন্দরে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহু যে দাবিগুলো করেছিলেন, তার অনেকগুলোই সঠিক প্রমাণিত হয়নি। এতে ট্রাম্পের টিমের আস্থা হারিয়েছেন তিনি।
সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হ্রাস: শুধু ডেমোক্র্যাটরা নয়, ট্রাম্পের নিজস্ব ‘MAGA’ সমর্থকদের মধ্যেও নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে কমেছে।
মার্কিন রাজনীতিতে চাপ: সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সাংসদ ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
হোয়াইট হাউসের কৌশলগত দূরত্ব: হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, তারা এখন সম্পর্ককে আগের মতো আর এগিয়ে নিতে ইচ্ছুক নন। নেতানিয়াহু সাক্ষাতের আবেদন করলেও ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো সবুজ সংকেত আসেনি।
যদিও ভবিষ্যতে কোনো অনুষ্ঠানে দুই নেতার সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের ক্ষীণ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের সম্পর্কের সমীকরণ যে অনেকটাই বদলে গেছে, তা বলাই বাহুল্য। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি প্রোটোকলজনিত বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির এক নতুন ইঙ্গিত।