জমি দখল থেকে তোলাবাজি! সিন্ডিকেট মাফিয়া সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ইডির ১০০ পাতার চার্জশিট

রাজ্যের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-র অভিযান অব্যাহত। এবার সিন্ডিকেট মাফিয়া হিসেবে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল ইডি। গ্রেফতারির ৬০ দিনের মাথায় পেশ করা এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটটি ১০০ পাতার এবং এতে ২০০ জন সাক্ষীর বয়ান রয়েছে।
চার্জশিটে কী কী অভিযোগ? ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সোনা পাপ্পু মোট ৩৭ কোটি ৭৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, জমি দখলের জন্য তিনি পুলিশের প্রভাবকেও নির্লজ্জভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। গত ১৮ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
অপরাধের ‘ত্রিভুজ’: সোনা পাপ্পুর পাশাপাশি, এই একই দুর্নীতির মামলায় আরও দুই হাই-প্রোফাইল অভিযুক্ত রয়েছেন— কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি (DCP) শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী জয় এস কামদার। এদের দুজনের বিরুদ্ধে আগেই চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতে, পুলিশ, প্রোমোটার ও অপরাধীদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র।
প্রাক্তন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য: তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ আধিকারিকদের পোস্টিং পাইয়ে দিতেন এবং প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। জয় কামদার ও শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মোট ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ১৯ এপ্রিল শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মে মাসে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।
তদন্তের পরবর্তী পর্যায়: প্রতারণা, তোলাবাজি ও জমি দখলের এই জটিল মামলায় ইডি ধারাবাহিকভাবে চার্জশিট পেশ করছে। অপরাধের এই সিন্ডিকেট কীভাবে দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে চলত, চার্জশিটে তার স্পষ্ট প্রমাণ উঠে এসেছে। ইডির বিশেষ আদালতে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে তদন্তকারীরা।