দিদি থেকে দূরত্ব, নিশীথ-ঘনিষ্ঠতা! রং বদলে ময়দানে নতুনের খোঁজে মমতার ভাই বাবুন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এতদিন তৃণমূলের অন্দরে কোণঠাসা থাকার পর এবার ময়দানে টিকে থাকতে বাবুন তাঁর নতুন ‘ক্রীড়াপ্রেমী’ ফর্মুলা নিয়ে হাজির। অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাবুন বলেন, “সুভাষ চক্রবর্তী বা মদন মিত্রর মতো নেতাদের সঙ্গে কাজ করলেও, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়নি। তাঁর সঙ্গে আমার কখনোই বনিবনা ছিল না। তিনি আমাকে কাজ করতে দিতেন না। এমনকি সুজিত বসু মিথ্যে কথা বলে আমার থেকে হকির দায়িত্ব কেড়ে নিয়েছেন।”

তৃণমূলের অন্দরের এই ফাটল কেবল বাবুনের মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগী বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনের বহিষ্কারের পরেই তৃণমূলের ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়েছে। সূত্রের খবর, বহিষ্কৃত এই দুই বিধায়কের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বহু তৃণমূল বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় ৫২ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড়ের কাজ প্রায় চূড়ান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিধায়কদের একাংশ ইতিমধ্যেই ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে এমএলএ হস্টেলে গোপন বৈঠক করেছেন। আজ মঙ্গলবারই সেই বিধায়কদের স্বাক্ষরিত চিঠি বিধানসভায় জমা পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা।

তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। একদিকে মমতার ভাই বাবুনের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন, অন্যদিকে দলের বিধায়কদের এই ‘বেসুরো’ হওয়া—সব মিলিয়ে নবান্নের অন্দরে দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনিয়ে আসছে। বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপের সুরে বলেছেন, “দীর্ঘদিন আমি কোণঠাসা। পরিবার থেকে ত্যাজ্যপুত্র হওয়ার মতো অবস্থা। কেবল ভাইফোঁটা বা রাখির দিন দিদির ডাক পেতাম। আমার মানসিক যন্ত্রণা কেউ বুঝতে চায় না।” নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি সরাসরি দলবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে এক অস্থির সময়ের সাক্ষী হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতি। মমতার ঘনিষ্ঠ মহলের এই ভাঙন এবং বহিষ্কৃত বিধায়কদের সমান্তরাল সক্রিয়তা কি আসন্ন কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৭৮ থেকে কমে আরও কতদূর গড়ায়! অন্যদিকে, ভোটের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আগামী কয়েকটা দিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy