ব্যারাকপুরে কড়া অ্যাকশন, সেনার জমিতে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে সাফ করল প্রশাসন, এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য

ব্যারাকপুর সেনানিবাস এলাকায় চলল বুলডোজার। দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর জমিতে গড়ে তোলা তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র একটি দলীয় কার্যালয় এদিন প্রশাসনের উদ্যোগে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘদিনের এই অবৈধ দখলের অবসান হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনই শাসকদলের অন্দরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।
জানা গিয়েছে, ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বা সেনানিবাস এলাকার জমিটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন। অথচ সেই জমিতেই বছরের পর বছর ধরে শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের এই কার্যালয়টি অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও এই নির্মাণ সরানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিল প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের আধিকারিকরা স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় এই উচ্ছেদ অভিযানে নামেন। কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই নিয়ম মেনে অফিসের ভেতর থেকে যাবতীয় আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর বুলডোজার ব্যবহার করে সম্পূর্ণ কার্যালয়টিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিজেপি-৩ মণ্ডলের সভাপতি বিজয় রাজাক সরাসরি শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, “ব্যারাকপুরে তৃণমূলের এই দলীয় কার্যালয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। এখানে দিনের পর দিন বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক ও বেআইনি কার্যকলাপ চালানো হতো। এতদিন স্থানীয় প্রশাসন শাসকদলের ভয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর নির্দেশে এই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় দখলদারি ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতদিন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের প্রভাবের কারণে এই কার্যালয়টি ভাঙার সাহস পায়নি কেউ। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে এই উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেনানিবাস এলাকায় এই ধরণের অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।
অভিযানের সময় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি থাকলেও কোনো বড় ধরণের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারাকপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সেনাবাহিনীর জমিতে এই ধরণের উচ্ছেদ অভিযান তৃণমূলের স্থানীয় সাংগঠনিক দাপটের ওপর একটি বড় ধাক্কা। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের এই সমন্বিত পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্যান্য বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষ। এখন দেখার, এই ঘটনার পর প্রশাসন কি অন্য কোনো অবৈধ নির্মাণের দিকে নজর দেয় কি না।